
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরান বলছে, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো বন্ধ রয়েছে। ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি খোলা ও সচল রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নৌ অবরোধ কার্যকর রয়েছে এবং প্রণালির সব নৌমাইন সরিয়ে ফেলা হয়েছে অথবা ধ্বংস করা হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে বর্তমানে কোনো আলোচনা চলছে না এবং নতুন কোনো আলোচনাও নির্ধারিত নেই।
তবে ট্রাম্পের দাবির বিপরীত অবস্থান জানিয়েছে ইরান। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি এখনো বন্ধ রয়েছে। এর আগে ট্রাম্পের জামাতা ও বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং তা আগের চেয়ে আরও জোরালো হয়েছে।
এদিকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাচ্ছে বলে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করলেও বিভিন্ন দেশ জাহাজ চলাচলে নতুন বাধার কথা জানিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজ লক্ষ্য করে ছোড়া হলেও পরে সমুদ্রে পড়ে যায়।
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
উত্তেজনার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম, লেনদেন ও আর্থিক লেনদেন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরান এখনো আগ্রহী। তবে আলোচনাকে আত্মসমর্পণ হিসেবে দেখা উচিত নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। তার ভাষ্য, সামরিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা ইরানের মনোবল ভাঙতে পারবে না এবং নিজেদের নিরাপত্তা ও মিত্রদের সুরক্ষায় দেশটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ সংঘাত ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রভাব আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও পড়ছে। চুক্তির মাধ্যমে সংঘাত অবসানের সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, শেয়ারবাজারে চাপ তৈরি হয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি ও সরকারি অর্থব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ফলে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পরস্পরবিরোধী অবস্থান শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।