
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশের চলমান গ্যাস সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আরও দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিপি সিঙ্গাপুর লিমিটেডের কাছ থেকে কেনা হবে এই দুই কার্গো। এতে সরকারের মোট ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা।
সোমবার (১৭ আগস্ট) অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৩৮তম সভায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে মোট পাঁচ কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব করা হয়। এর মধ্যে দুই কার্গো কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দুই কার্গোর দাম প্রায় ১,৮৫১ কোটি টাকা
অনুমোদিত প্রথম কার্গোটির প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ দশমিক ৮৭৮ মার্কিন ডলার। এই কার্গো কিনতে সরকারের ব্যয় হবে ৯২৭ কোটি ৫০ লাখ ৬০ হাজার ৮৩৩ টাকা। আগামী ২৩ থেকে ২৪ আগস্টের মধ্যে কার্গোটি দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
দ্বিতীয় কার্গোটিও একই প্রতিষ্ঠান, বিপি সিঙ্গাপুর লিমিটেডের কাছ থেকে কেনা হবে। আগামী ৪ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর সরবরাহের জন্য নির্ধারিত এই কার্গোর প্রতি এমএমবিটিইউর দাম ২১ দশমিক ৭৭৮ মার্কিন ডলার। এ কার্গোর জন্য সরকারের ব্যয় হবে ৯২৩ কোটি ২৬ লাখ ৬৬ হাজার ৩৬৯ টাকা।
ফলে দুই কার্গো এলএনজি কিনতে সরকারের মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৮৫০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দাম বেশি
এদিকে, সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে বিদ্যমান দামের তুলনায় বেশি মূল্যে এসব এলএনজি কেনা হচ্ছে। জ্বালানি বিভাগের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৬ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত জেকেএমের গড় হিসাব অনুযায়ী আগস্টে সরবরাহ করা এলএনজির গড় মূল্য হওয়ার কথা প্রতি এমএমবিটিইউ ১৬ দশমিক ৮০৮ মার্কিন ডলার।
অন্যদিকে, অনুমোদিত প্রথম কার্গোর জন্য প্রতি এমএমবিটিইউতে ২১ দশমিক ৮৭৮ ডলার এবং দ্বিতীয় কার্গোর জন্য ২১ দশমিক ৭৭৮ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, উল্লিখিত গড় বাজারদরের তুলনায় দুই কার্গোর ক্রয়মূল্যই উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
গ্যাস সংকট মোকাবিলায় আমদানির ওপর নির্ভরতা
দেশে গ্যাসের সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ঘাটতি থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত গ্যাসের ঘাটতি পূরণে এলএনজি আমদানিকে অন্যতম প্রধান উপায় হিসেবে ব্যবহার করছে সরকার।
আমদানি করা এলএনজি দেশে এনে পুনর্গ্যাসীকরণের পর জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। ফলে নতুন কার্গো আসার মাধ্যমে সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বেশি থাকায় বাড়তি দামে আমদানি সরকারের ব্যয়ের ওপরও চাপ তৈরি করছে। একই সঙ্গে এলএনজি আমদানির অর্থ পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হওয়ায় দেশের ডলার বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানের গুরুত্ব
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলায় এলএনজি আমদানি তাৎক্ষণিক সমাধান দিতে পারলেও দীর্ঘমেয়াদে শুধু আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা টেকসই নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক সংঘাত এবং জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের মতো পরিস্থিতিতে আমদানি ব্যয় হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে।
তাই দেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
নতুন দুই কার্গো এলএনজি আমদানির ফলে আগামী আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে গ্যাস সরবরাহের চাপ কিছুটা কমানোর সুযোগ তৈরি হলেও আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বেশি দামে কেনাকাটার বিষয়টি সরকারের জ্বালানি ব্যয় ও আমদানিনির্ভরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।