• হোম > অর্থনীতি > মামলা থাকলে মিলবে না প্রণোদনা: বাংলাদেশ ব্যাংক

মামলা থাকলে মিলবে না প্রণোদনা: বাংলাদেশ ব্যাংক

  • মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৮
  • ৩৬

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স কোম্পানির বিরুদ্ধে দায়ের করা রিট পিটিশনসহ অন্যান্য মামলা প্রত্যাহার না করলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে কোনো ধরনের নীতি সহায়তা বা প্রণোদনা না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রোববার (১৭ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট-সংক্রান্ত বিভাগের পরিচালক আবুল কালাম আজাদের সই করা এক সার্কুলারে দেশের সব ফাইন্যান্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা পুনর্গঠন, আর্থিক খাতকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এসব উদ্যোগের আওতায় ফাইন্যান্স কোম্পানির মাধ্যমে ঋণগ্রহীতাদের বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা ও নীতি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

তবে কোনো কোনো গ্রাহক বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত প্রণোদনা ও নীতি সহায়তা গ্রহণ করলেও একই সময়ে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স কোম্পানির বিরুদ্ধে দায়ের করা রিট পিটিশনসহ অন্যান্য মামলা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে আর্থিক খাতে মামলাজট তৈরি হচ্ছে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলা প্রত্যাহারেই মিলবে সহায়তা

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আবেদনকারী বা গ্রাহককে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স কোম্পানির বিরুদ্ধে দায়ের করা রিটসহ অন্যান্য মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

মামলা প্রত্যাহারের পরই সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত এবং ভবিষ্যতে ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজসহ অন্যান্য নীতি সহায়তার জন্য করা আবেদন বিবেচনা করতে হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

অর্থাৎ, কোনো গ্রাহক নীতি সহায়তা বা প্রণোদনা পাওয়ার জন্য আবেদন করলে তার বিরুদ্ধে কিংবা তার করা মামলা রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করতে হবে ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোকে।

দিতে হবে হলফনামা

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, গ্রাহকের আবেদন পর্যালোচনা করে নীতিগত সম্মতি দেওয়ার সময় তাকে মামলা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য গ্রাহককে একটি হলফনামা দিতে হবে।

হলফনামায় সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স কোম্পানির বিরুদ্ধে দায়ের করা কোনো মামলা অনিষ্পন্ন নেই—এমন ঘোষণা থাকতে হবে। একই সঙ্গে আগে প্রত্যাহার করা মামলাগুলোর তালিকাও হলফনামায় উল্লেখ করতে হবে।

এর মাধ্যমে কোনো গ্রাহক মামলা প্রত্যাহার করেছেন কি না এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে তার কোনো মামলা এখনো চলমান আছে কি না, সে বিষয়ে লিখিত নিশ্চয়তা নেওয়া হবে।

সহায়তা অনুমোদনের পর শর্ত বদলানো যাবে না

তবে হলফনামা নেওয়ার পর ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো গ্রাহকের অনুকূলে অনুমোদিত নীতি সহায়তা বা প্রণোদনার শর্ত পরিবর্তন করতে পারবে না।

নীতিগত সম্মতির ভিত্তিতে গ্রাহকের জন্য যে প্রণোদনা বা নীতি সহায়তা অনুমোদিত হবে, তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। ফলে মামলা প্রত্যাহারের শর্ত পূরণ করার পর অনুমোদিত সহায়তার ক্ষেত্রে নতুন করে কোনো শর্ত আরোপ করার সুযোগ থাকবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ নির্দেশনার মূল লক্ষ্য হলো আর্থিক খাতে চলমান মামলাজট কমানো এবং ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন ও আর্থিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করা।

ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর জন্য কার্যকর নির্দেশনা

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩-এর ৪১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সার্কুলারটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

নতুন নির্দেশনার ফলে এখন থেকে ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোকে ঋণগ্রহীতাদের নীতি সহায়তা বা প্রণোদনা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের মামলার বিষয়টি যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে হলফনামাও নিতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপ একদিকে আর্থিক খাতে মামলাজট কমানোর উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে প্রণোদনা ও নীতি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতাদের জন্য নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত তৈরি হলো।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/15452 ,   Print Date & Time: Tuesday, 18 August 2026, 12:45:36 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh