• হোম > রাজনীতি > উন্নয়ন বাধাগ্রস্তকারীদের কঠোর প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি

উন্নয়ন বাধাগ্রস্তকারীদের কঠোর প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি

  • রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৪৮
  • ৯

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জে পৌঁছে পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় দেশের চলমান পরিস্থিতিতে জনগণকে ধৈর্য ধরার পাশাপাশি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান।

তারেক রহমান বলেন, পতিত স্বৈরাচারের রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশ পুনর্গঠনের কাজ চলছে। এমন একটি সময়ে দেশের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করে যারা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত করতে চাইবে, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ এখন শান্তি চায়। তারা আইনের শাসন, কর্মসংস্থান, সন্তানদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা এবং পরিবারের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা চায়। জনগণের এসব প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

সংকটের সময় ধৈর্য ধরার আহ্বান

দেশের যেকোনো সংকট মোকাবিলায় জনগণকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যক্তি রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যও ক্ষতির মুখে পড়ছে।

জনসভায় তিনি বলেন, দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যারা কাজ করবে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে কিংবা জনগণের স্বার্থে নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাধা দেবে, তাদের বিরুদ্ধে জনগণের শক্তি নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চায়। তারা চায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হোক এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে শিক্ষাব্যবস্থা আরও কার্যকর হোক। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ কারণে বর্তমান পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন জনগণকে ধৈর্য ধরতে হবে, অন্যদিকে যারা ইচ্ছাকৃতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে তাদের ব্যাপারেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্য

তারেক রহমান বলেন, সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো আগামী দিনে একটি কল্যাণমুখী বা ওয়েলফেয়ার স্টেট গড়ে তোলা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

তিনি বলেন, জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক প্রয়োজন পূরণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষকে সরকারের উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তার সুবিধার আওতায় আনা এবং একটি মানবিক ও কল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাওয়া।

নির্বাচনী সমর্থনের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান

জনসভায় উপস্থিত হাজারো মানুষের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, সরকারের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের মানুষ উপকৃত হবে—এমন প্রত্যাশা থেকেই জনগণ নির্বাচনে তাদের সমর্থন জানিয়েছে।

তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ যে সমর্থন দিয়েছে, সেই সমর্থনের ওপর আস্থা ধরে রাখতে হবে। একই সঙ্গে দেশ পুনর্গঠন ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের নেওয়া কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমানের বক্তব্যে দেশের স্থিতিশীলতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে।

তিনি বলেন, দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে শুধু সরকারের একার প্রচেষ্টায় হবে না; জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণও প্রয়োজন। দেশের স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যেন সাধারণ মানুষের জীবন ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে।

শান্তি ও উন্নয়নের পরিবেশ বজায় রাখার ওপর জোর

জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যের মূল বার্তায় ছিল দেশের শান্তি, আইনের শাসন ও উন্নয়ন অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন।

সরকারপ্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ এবং একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ে তোলাই এখন সরকারের বড় লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে জনগণের সমর্থন, ধৈর্য এবং সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তিনি।

একই সঙ্গে রাজপথে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা উন্নয়নবিরোধী কর্মকাণ্ড যাতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/15389 ,   Print Date & Time: Sunday, 16 August 2026, 10:26:41 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh