![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্রও বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এখন দুজন বৈধ প্রার্থী রয়েছেন।
রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে রাষ্ট্রপতি পদে জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। নির্বাচনী কর্তা হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র যাচাই করেন। যাচাই-বাছাই শেষে তাঁর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিএনপির পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে তাঁর পক্ষে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়।
মির্জা ফখরুলের মনোনয়ন বৈধ হওয়ার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্রও স্পষ্ট হলো। তাঁর বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন ১১ দলীয় জোটের সমর্থিত লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। তাঁর মনোনয়নপত্রও রোববার যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করেছে ইসি।
অলি আহমদের মনোনয়ন বৈধ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুই প্রার্থীর মনোনয়নই বৈধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। জোটের নেতারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সংসদীয় রাজনীতিতে কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা তুলে ধরার কথা জানিয়েছেন।
২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা নির্ধারিত হবে। এরপর ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ফলে আগামী কয়েক দিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও আলোচনা ও তৎপরতা বাড়তে পারে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় সংসদের সদস্যরা। প্রচলিত সাংবিধানিক ব্যবস্থায় সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ফলে সাধারণ ভোটারদের সরাসরি ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকে না।
এবারের নির্বাচন রাজনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্বও বহন করছে। কারণ, রাষ্ট্রপতি পদে ক্ষমতাসীন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর পাশাপাশি প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক জোটের পক্ষ থেকেও আলাদা প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে সংসদের ভেতরের রাজনৈতিক সমীকরণও আলোচনায় এসেছে।
ফখরুল বনাম অলি
বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে দলটির মহাসচিব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন। রাষ্ট্রপতি পদে তাঁর প্রার্থিতা ঘোষণার পর দলীয় রাজনীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। তিনি এলডিপির চেয়ারম্যান এবং ১১ দলীয় জোটের সমর্থনে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর প্রার্থিতা ঘোষণার মাধ্যমে বিরোধী জোট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার অবস্থান নিয়েছে।
রাষ্ট্রপতি পদে দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হওয়ার ফলে এখন মূল নজর থাকবে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পরিস্থিতির ওপর। এরপর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও স্পষ্ট হবে।
ভোটের ফল নির্ধারণ করবে সংসদ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সাধারণ জনগণের সরাসরি ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ফলে সংসদে রাজনৈতিক দলগুলোর আসনসংখ্যা এবং দলীয় সিদ্ধান্ত নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এবার বিএনপি সমর্থিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় জোট সমর্থিত কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রূপ পেয়েছে।
এখন ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা এবং এরপর ২০ আগস্টের ভোটের দিকে নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের। শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদে কে নির্বাচিত হন, তা নির্ধারিত হবে সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে।