• হোম > বিদেশ > ইরানের হামলায় রসদকেন্দ্র হারিয়ে চাপে মার্কিন নৌবাহিনী

ইরানের হামলায় রসদকেন্দ্র হারিয়ে চাপে মার্কিন নৌবাহিনী

  • রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৬
  • ১০

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

ইরানের হামলায় বাহরাইনে থাকা মার্কিন নৌঘাঁটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে অভিযান পরিচালনাকারী যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরিগুলোর রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন এবং সেখানে থাকা প্রায় ৫ হাজার নাবিকের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

যুদ্ধের শুরুতেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও হামলাকারী ড্রোন বাহরাইনে থাকা মার্কিন নৌঘাঁটিতে আঘাত হানে। তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে চালানো ওই হামলায় ঘাঁটির একটি বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। একই সঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনী কয়েক দশক ধরে যে গুরুত্বপূর্ণ রসদ সরবরাহকেন্দ্রের ওপর নির্ভর করছিল, সেটিও কার্যত হারিয়ে যায়।

এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ও যুদ্ধজাহাজগুলোতে নিয়মিত খাবার, জ্বালানি, অস্ত্র, যন্ত্রাংশসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। যুদ্ধবিমানগুলোকে টানা অভিযানের উপযোগী রাখার পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ বজায় রাখার দায়িত্বে থাকা নাবিকদের জন্যও বিকল্প রসদব্যবস্থা গড়ে তুলতে হয়।

বাহরাইনের বিকল্প ডিয়েগো গার্সিয়া

বাহরাইনের ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র বিকল্প রসদকেন্দ্র হিসেবে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণাধীন ডিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপের সামরিক ঘাঁটির দিকে নজর দেয়। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত এই দ্বীপটি মালদ্বীপের দক্ষিণে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরি স্ট্রাইক গ্রুপ থেকে প্রায় ২ হাজার ২০০ মাইল দূরে।

এক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বাহরাইনের নৌঘাঁটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরপরই ডিয়েগো গার্সিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ পণ্য ও রসদ পাঠানোর কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার শুরু করে মার্কিন নৌবাহিনী।

এরপর গত ২০ মার্চ ইরান ডিয়েগো গার্সিয়ার দিকে দুটি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। এর একটি লক্ষ্যস্থলে পৌঁছানোর আগেই ভারত মহাসাগরে পড়ে যায়। অন্য ক্ষেপণাস্ত্রটি মার্কিন নৌবাহিনী ধ্বংস করে।

এই ঘটনার পর ডিয়েগো গার্সিয়ার কৌশলগত গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের কাছাকাছি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও ঘাঁটিগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় থাকায় যুক্তরাষ্ট্রকে তুলনামূলক দূরের নিরাপদ ঘাঁটি ব্যবহার করে রসদ সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে।

নয় মাস ধরে সমুদ্রে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন

সান দিয়েগোভিত্তিক ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন প্রায় নয় মাস ধরে সমুদ্রে রয়েছে। এত দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান করলেও রণতরিটি এমন কোনো ‘স্বাধীনতা বন্দরে’ থামতে পারেনি, যেখানে নাবিকেরা কয়েক দিনের জন্য জাহাজ থেকে নেমে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পান।

সাধারণ সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরিগুলো বাহরাইনে নোঙর করে। সেখানে নাবিকেরা কিছুটা বিশ্রাম নেওয়ার পাশাপাশি জাহাজে প্রয়োজনীয় রসদ সংগ্রহের সুযোগ পান। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ। তবে সেটিও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার মধ্যে রয়েছে।

ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এসব বন্দরের ওপর আগের মতো নির্ভর করা সম্ভব হচ্ছে না। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকা মার্কিন নাবিকদের ওপর।

নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ

ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে থাকা প্রায় ৫ হাজার নাবিকের দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কানেকটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে লেখা এক চিঠিতে জানান, লিংকনের নাবিকদের নিয়ে যেসব সমস্যার কথা জানা গেছে, তার মধ্যে রয়েছে মৌলিক প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতি এবং মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি।

দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে দূরে থাকা, একটানা সমুদ্রে অবস্থান এবং নিয়মিত যুদ্ধ অভিযানে অংশ নেওয়ার কারণে নাবিকদের ওপর মানসিক চাপ বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি মাইক লেভিনও জানিয়েছেন, তার নির্বাচনী এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা লিংকনে কর্মরত। এসব নাবিকের পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

লেভিনের মতে, শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি হচ্ছে—মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর এই দীর্ঘমেয়াদি মিশনের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী। নাবিকদের পরিবারের সদস্যরাও মূলত সেটিই জানতে চাইছেন।

লিংকনের পরিবর্তে পাঠানো হচ্ছে জর্জ ওয়াশিংটন

দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার পর ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের পরিবর্তে আরেকটি বিমানবাহী রণতরি পাঠানোর কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার মেরিল্যান্ডের একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে বলেন, লিংকন এখনই অথবা খুব শিগগিরই রওনা হচ্ছে এবং এর পরিবর্তে একই ধরনের আরেকটি রণতরি পাঠানো হচ্ছে।

লিংকনের পরিবর্তে পাঠানো হচ্ছে জাপানভিত্তিক ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে রণতরিটি ইন্দোনেশিয়ার জলসীমা অতিক্রম করে মালাক্কা প্রণালি দিয়ে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পথে ছিল।

এ ছাড়া ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশও কয়েক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে। এটি গত ৩১ মার্চ নরফোক থেকে যাত্রা করে ওই অঞ্চলে মোতায়েন হয়।

দীর্ঘ হচ্ছে মার্কিন রণতরিগুলোর মোতায়েন

বিমানবাহী রণতরিগুলোর মোতায়েনের সময়কাল অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ হয়ে যাচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প তা নাকচ করেছেন।

তিনি বলেন, এসব রণতরির মোতায়েনের সময় ‘কোনোভাবেই যথেষ্ট দীর্ঘ নয়’। একই ধরনের অবস্থান জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও।

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ কতদিন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব—এমন প্রশ্নের জবাবে হেগসেথ বলেন, যতদিন প্রয়োজন ততদিন, এমনকি অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত এটি ধরে রাখা সম্ভব।

তবে সামরিক বিশ্লেষকদের কাছে দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের বাস্তবতা শুধু যুদ্ধক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে না। রসদ সরবরাহ, জাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ, নাবিকদের বিশ্রাম এবং মানসিক সুস্থতাও বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডিয়েগো গার্সিয়া নিয়ে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে টানাপোড়েন

ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের শুরুতে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মার্কিন বাহিনীকে ডিয়েগো গার্সিয়া ব্যবহারের অনুমতি দিতে প্রথমে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। ওই সিদ্ধান্তে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন বলে জানা যায়।

পরে স্টারমার তার অবস্থান পরিবর্তন করেন এবং ১ মার্চ মার্কিন সামরিক বাহিনীকে দ্বীপটি ব্যবহারের অনুমতি দেন। তবে তিনি এটিকে ‘নির্দিষ্ট ও সীমিত প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে’ ব্যবহারের অনুমতি হিসেবে বর্ণনা করেন।

বাহরাইনের ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ডিয়েগো গার্সিয়া যে মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প রসদকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, তা পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

যুদ্ধজাহাজের ওপর বাড়ছে বাড়তি চাপ

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরিগুলোর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ মোতায়েন করা হয়েছে। আগামী বছর ইউএসএস নিমিটজ অবসর নেওয়ার পর মার্কিন নৌবহরে বিমানবাহী রণতরির সংখ্যা ১০টিতে নেমে আসবে।

শান্তিকালে সাধারণত একটি বিমানবাহী রণতরির সমুদ্রে মোতায়েনের সময়কাল প্রায় ছয় মাস। তবে ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর কয়েকটি রণতরি এর চেয়ে অনেক বেশি সময় সমুদ্রে অবস্থান করেছে।

এর মধ্যে ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড ৩২৬ দিনের মোতায়েনের মাধ্যমে ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর কোনো মার্কিন বিমানবাহী রণতরির সবচেয়ে দীর্ঘ মোতায়েনের রেকর্ড তৈরি করেছে।

ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় ইয়াঙ্কি স্টেশনে দায়িত্ব পালনকারী মার্কিন বিমানবাহী রণতরিগুলোও দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকত। তবে তখন ফিলিপাইনের সুবিক বে নৌঘাঁটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ বিশ্রাম ও রসদ সংগ্রহের কেন্দ্র। মাত্র দুই দিনের সমুদ্রযাত্রার দূরত্বে থাকা ওই ঘাঁটিতে নাবিকেরা বিশ্রাম নেওয়ার পাশাপাশি জাহাজগুলো অস্ত্র, খাবার, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে পারত।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে এমন নিরাপদ ও সহজলভ্য বিকল্প কম থাকায় মার্কিন নৌবাহিনীর ওপর চাপ আরও বেড়েছে।

‘বিয়ার ডে’র জন্যও যোগ্য লিংকনের নাবিকেরা

মার্কিন নৌবাহিনীর প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনো যুদ্ধজাহাজের নাবিকেরা টানা ৪৫ দিন বা তার বেশি সময় সমুদ্রে থাকলে জাহাজটির কমান্ডিং কর্মকর্তা তাদের জন্য ‘বিয়ার ডে’ আয়োজনের অনুরোধ করতে পারেন।

ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকেরা সমুদ্রে অবস্থানের সময় বিবেচনায় ইতোমধ্যে এ ধরনের পাঁচটি দিনের জন্য যোগ্য হয়ে গেছেন।

তবে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে অংশ নেওয়া কোনো মার্কিন জাহাজ এ ধরনের দিনের জন্য আবেদন করেছে কি না, সে বিষয়ে মার্কিন পঞ্চম নৌবহর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

বিষয়টি থেকে বোঝা যায়, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ ও মোতায়েন শুধু সামরিক সরঞ্জাম বা অস্ত্রের সক্ষমতার পরীক্ষা নয়; এটি নাবিকদের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতারও বড় পরীক্ষা।

রসদ সরবরাহই হয়ে উঠছে বড় চ্যালেঞ্জ

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই রসদ সরবরাহ ও নাবিকদের দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

বাহরাইনের গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি হারানোর পর হাজার হাজার মাইল দূরের ডিয়েগো গার্সিয়ার ওপর নির্ভরতা, নিরাপদ বন্দরের সীমাবদ্ধতা, দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান এবং নাবিকদের মানসিক চাপ—সব মিলিয়ে মার্কিন নৌবাহিনীকে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

নতুন বিমানবাহী রণতরি পাঠিয়ে সামরিক উপস্থিতি ধরে রাখার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে রসদ সরবরাহ, জাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ এবং নাবিকদের বিশ্রামের ব্যবস্থা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সেটিই সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াতে পারে।

শেষ পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে এই দীর্ঘ সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা শুধু কতটি বিমানবাহী রণতরি বা যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে, তার ওপর নির্ভর করবে না। বরং সমুদ্রের মাঝখানে থাকা হাজার হাজার নাবিককে কতটা কার্যকরভাবে রসদ, বিশ্রাম ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া যাচ্ছে—সেটিও যুদ্ধ পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/15374 ,   Print Date & Time: Sunday, 16 August 2026, 08:03:26 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh