• হোম > বাংলাদেশ > জ্বালানি সংকট কাটাতে দুই বছর সময় লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

জ্বালানি সংকট কাটাতে দুই বছর সময় লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

  • শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৪৫
  • ৯

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

দেশে চলমান জ্বালানি সংকটের চ্যালেঞ্জ এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, এই সংকট থেকে স্থায়ীভাবে উত্তরণে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করতে হবে এবং এজন্য সরকারকে পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। জ্বালানি টার্মিনালের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন গ্যাস কূপ খনন করা হলে দেশে জ্বালানি সরবরাহের সক্ষমতা আরও বাড়বে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে সিলেটের একটি হলরুমে ‘আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জেলা পর্যায়ের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং আগের বছরের বাস্তবায়ন মূল্যায়ন বিষয়ক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে শুধু তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহ বাড়ালেই হবে না; দীর্ঘমেয়াদে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও গড়ে তুলতে হবে। নতুন কূপ খনন ও জ্বালানি টার্মিনালের সক্ষমতা বাড়ানোর মতো উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় স্বয়ংসম্পূর্ণতা আরও বাড়বে।

মন্ত্রী জানান, এসব অবকাঠামোগত উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রায় দুই বছর সময় প্রয়োজন হতে পারে। তাই জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নেওয়া দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সময় দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

চাহিদা সরবরাহের দ্বিগুণ

দেশে বর্তমানে জ্বালানির চাহিদা সরবরাহের তুলনায় অনেক বেশি উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দৈনিক জ্বালানির চাহিদা এখন সরবরাহের প্রায় দ্বিগুণ। বছরের এই সময়টিতে অন্যান্য মৌসুমের তুলনায় চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকে। এর সঙ্গে সরবরাহের সীমাবদ্ধতা যুক্ত হওয়ায় সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের প্রভাব শুধু সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেই নয়, দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও পড়তে পারে। শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

এলএনজি আমদানির উদ্যোগ

জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার বিভিন্ন দিক থেকে কাজ করছে বলেও জানান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এর অংশ হিসেবে মালয়েশিয়া থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানির চেষ্টা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ধরে রাখতে বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন। শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে বর্তমান সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি ভবিষ্যতের চাহিদার বিষয়টিও বিবেচনায় নিয়ে সরকার কাজ করছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশের নিজস্ব জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নতুন গ্যাস কূপ খনন এবং টার্মিনালের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যতে সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষিতে সম্ভাবনা কাজে লাগানোর লক্ষ্য

এদিকে কৃষি খাতের সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের কৃষি খাতে এখনও বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক রিটার্ন নিশ্চিত করাই সরকারের আগামী দিনের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, কৃষিকাজকে আরও লাভজনক ও আধুনিক করতে হবে। দেশের কৃষির বিদ্যমান সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে অর্থনীতিতে এ খাতের অবদান আরও বাড়ানো সম্ভব।

কর্মশালা শেষে সিলেট নগরের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বন বিভাগ আয়োজিত বিভাগীয় বৃক্ষমেলারও উদ্বোধন করেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/15318 ,   Print Date & Time: Saturday, 15 August 2026, 03:29:30 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh