![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
আগামী সপ্তাহের শেষার্ধে ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্ভাব্য এই সফরকে সামনে রেখে ঢাকা ও নয়াদিল্লিতে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফরের তারিখ হিসেবে ২২ ও ২৩ আগস্ট বিবেচনা করা হচ্ছে। ভারতের স্বাধীনতা দিবসের এক সপ্তাহ পর এই সফর হতে পারে। তবে সফরের তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় বা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
সফরটি চূড়ান্ত হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে সফরটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মোদির সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা
সম্ভাব্য সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হতে পারে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আলোচনার সম্ভাব্য বিষয়গুলোর মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। পাশাপাশি দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক করার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে এনডিটিভি।
দুই দিনের সম্ভাব্য সফরটিকে দ্বিপক্ষীয় সফর হিসেবেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সফরটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
বিএনপি সরকার গঠনের পর দিল্লির আমন্ত্রণ
গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত সরকার। সেই আমন্ত্রণের পর থেকেই সম্ভাব্য সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছিল।
এ ছাড়া আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে ব্রিকসের ওই আয়োজনে তিনি অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখনো স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার চেয়ে আলাদা দ্বিপক্ষীয় সফরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। গত সপ্তাহে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বক্তব্যেও এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
ঢাকা-দিল্লিতে প্রস্তুতি
ঢাকার সরকারি সূত্রগুলোর বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভারত সফরকে ঘিরে নীরবে প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। এরই অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকও হয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে, ওই বৈঠক সম্ভাব্য সফরের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখতে পারে। সফরের তারিখ, বৈঠকের সূচি এবং আলোচনার বিষয়গুলো নিয়ে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে সমন্বয় চলছে বলে জানা গেছে।
তবে সফর নিয়ে এখনো কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ভারত ও জাপান সফর এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
তিনি বলেন, সফরের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সময়সূচি এবং দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে।
গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে প্রথম ভারত সফর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর শুধু সৌজন্য সফর হিসেবে নয়, বরং দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বাণিজ্য ও যোগাযোগের পাশাপাশি জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশের অবস্থান ও পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
তবে শেষ পর্যন্ত সফরের তারিখ ও কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি সম্ভাবনার মধ্যেই থাকছে। এখন ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক তৎপরতার দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।