• হোম > এশিয়া | বিদেশ > ফ্লোরেসে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত বেড়ে ৩৮

ফ্লোরেসে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত বেড়ে ৩৮

  • শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১৮:২৯
  • ৬

---

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলের ফ্লোরেস দ্বীপে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় এক মিটারের কম উচ্চতার সুনামি ঢেউও রেকর্ড করা হয়েছে। পরে প্রায় তিন ঘণ্টা পর সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করে কর্তৃপক্ষ।

দেশটির উদ্ধারকারী সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাওমেরে বন্দর শহরের আশপাশ থেকে এখন পর্যন্ত ৩৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ছয়জন আহত হয়েছেন এবং আরও দুজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা রয়েছেন।

উদ্ধার সংস্থার প্রধান ফাথুর রহমান রয়টার্সকে জানান, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের সবচেয়ে কাছের নাগেওকেও এলাকায় এখনো উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারেনি। সেখানে যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভূমিধসের কারণে সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তবে একটি দল ফেরিতে করে ওই এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

ইন্দোনেশিয়ার ভূ-প্রকৌশল ও আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি জানায়, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫৮ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ১৫ কিলোমিটার গভীরে। মূল ভূমিকম্পের পর আধা ঘণ্টার মধ্যে অন্তত তিনটি শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়। এগুলোর মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৫ দশমিক ৯, ৫ দশমিক ৬ ও ৬ দশমিক ১।

সুনামি সতর্কতা জারি ও প্রত্যাহার

শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ফ্লোরেস দ্বীপের উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। পরে কয়েকটি এলাকায় এক মিটারের কম উচ্চতার সুনামি ঢেউ রেকর্ড হলেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর প্রায় তিন ঘণ্টা পর সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবি জানিয়েছে, পূর্ব নুসা তেংগারা, পশ্চিম নুসা তেংগারা ও দক্ষিণ সুলাওয়েসির বিভিন্ন এলাকায় শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে। অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, প্রায় এক মিনিট ধরে মাটি কেঁপেছে। আতঙ্কিত হয়ে বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন।

নাগেওকেও এলাকা থেকে প্রায় ২ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভূমিকম্পে বেশ কিছু বাড়িঘর, গুদাম ও সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

আতঙ্কে রাস্তায় মানুষ

রয়টার্সের যাচাই করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ফ্লোরেস দ্বীপের সিকা জেলার প্রধান শহর মাওমেরের একটি বন্দরে ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত মানুষ চিৎকার করতে করতে রাস্তায় বেরিয়ে আসছেন। একই সময়ে একটি ভবনের অংশবিশেষ ধসে পড়তেও দেখা যায়।

তালেবুরা গ্রামের ৫১ বছর বয়সী বাসিন্দা নোনা জানান, ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি ছিল অত্যন্ত তীব্র। তিনি বলেন, ভূমিকম্পের সময় পরিবারের ১৩ সদস্য ঘরে ছিলেন। কম্পন শুরু হলে সবাই জীবন বাঁচাতে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন।

এদিকে পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের এন্দে জেলার একটি হাসপাতাল থেকে নিরাপত্তার জন্য রোগীদের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো অন্তত একটি এলাকায় ভূমিধসের ঘটনাও জানিয়েছে।

‘রিং অব ফায়ার’-এ ইন্দোনেশিয়া

প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত ইন্দোনেশিয়া। কয়েকটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে দেশটিতে প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।

ফ্লোরেস দ্বীপে এর আগেও বড় ধরনের ভূমিকম্প ও সুনামির ঘটনা ঘটেছে। ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে একই অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট সুনামিতে আড়াই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/15302 ,   Print Date & Time: Saturday, 15 August 2026, 02:36:06 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh