![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, কাতার ও পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে, সেগুলোকে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হিসেবে বিবেচনা করছে না তেহরান।
শনিবার (১৫ আগস্ট) ইরানি সংবাদমাধ্যম শাহরারা নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন আব্বাস আরাগচি।
সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কাতার ও পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে বার্তা বিনিময় হচ্ছে। তবে এই যোগাযোগকে কোনোভাবেই আনুষ্ঠানিক আলোচনা বলা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি নতুন করে আলোচনা শুরু করার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ইরান।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি ওমানের সঙ্গে ইরানের আলাদা আলোচনা চলছে। এসব আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নির্ধারিত নৌপথ তৈরি করা।
আব্বাস আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের নির্ধারিত কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। অর্থাৎ, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল নিয়ে তেহরান নিজেদের অবস্থান ও শর্ত স্পষ্ট করেছে।
হরমুজ ইস্যুতে বাড়ছে উত্তেজনা
এদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান চরমভাবে পরাজিত হচ্ছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, শিগগিরই তিনি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের একটি পুলিশ একাডেমিতে রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় হাসতে হাসতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের পর ইরানের পক্ষ থেকেও কঠোর প্রতিক্রিয়া এসেছে। তেহরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দখল বা এর ওপর একতরফা কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার কোনো উদ্যোগ মেনে নেওয়া হবে না।
হরমুজ প্রণালি কেন গুরুত্বপূর্ণ
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করা এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন করা হয়।
ফলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে তেল ও জ্বালানির সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমানে ওমানের সঙ্গে ইরানের আলোচনায় হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য নৌপথ নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে কি না, সে বিষয়ে তেহরান এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।