• হোম > বিদেশ > ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া, নিহত ২০

৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া, নিহত ২০

  • শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৩১
  • ১১

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ফ্লোরেস দ্বীপে শক্তিশালী ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে বেশ কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও প্রায় তিন ঘণ্টা পর তা প্রত্যাহার করে নেয় কর্তৃপক্ষ।

উদ্ধারকারী সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফ্লোরেস দ্বীপের সিকা জেলার প্রধান শহর মাউমেরেতে এখন পর্যন্ত ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে দুজন আটকা পড়ে আছেন বলে জানা গেছে।

মাউমেরে উদ্ধার সংস্থার প্রধান ফাথুর রহমান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের সবচেয়ে কাছের নাগেকেও এলাকায় এখনো উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারেনি। ওই এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি ভূমিধসের কারণে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার তৎপরতাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

নাগেকেও এলাকায় পৌঁছাতে একটি উদ্ধারকারী দল ফেরিতে করে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবি জানিয়েছে, নাগেকেও এলাকায় প্রায় দুই হাজার মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে গেছেন। ভূমিকম্পে সেখানে বেশ কয়েকটি বাড়ি, গুদাম ও সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি যান চলাচলেও সমস্যা তৈরি হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর সুনামির ঢেউ

ভূমিকম্পের পর ফ্লোরেস দ্বীপের কয়েকটি উপকূলীয় এলাকায় এক মিটারের কম উচ্চতার সুনামির ঢেউ আঘাত হানে। এ পরিস্থিতিতে উপকূলীয় অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করে কর্তৃপক্ষ।

তবে কয়েক ঘণ্টা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর প্রায় তিন ঘণ্টা পর সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। এর আগে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া ও ভূকম্পন সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫৮ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৫ কিলোমিটার গভীরে। মূল কম্পনের পর কয়েকটি আফটারশকও অনুভূত হয়েছে।

আতঙ্কে ঘর ছাড়েন বাসিন্দারা

ভূমিকম্পের কম্পন ইস্ট নুসা তেনগারা, ওয়েস্ট নুসা তেনগারা এবং দক্ষিণ সুলাওয়েসির কিছু অংশেও অনুভূত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই জানিয়েছেন, প্রায় এক মিনিট ধরে মাটি কাঁপতে থাকে।

হঠাৎ শক্তিশালী কম্পনে আতঙ্কিত হয়ে অনেক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতেও ভূমিকম্পের সময় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ছোটাছুটির দৃশ্য দেখা গেছে।

মাউমেরে বন্দরের একটি ভিডিওতে একটি ভবনের অংশ ধসে পড়ার পর মানুষকে চিৎকার করতে করতে রাস্তায় ছুটে যেতে দেখা যায়। ভিডিওটির অবস্থান রয়টার্স যাচাই করেছে।

উদ্ধারকাজে বড় চ্যালেঞ্জ

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি এলাকায় এখনো উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে না পারায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভূমিধসের কারণে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় দুর্গত এলাকায় দ্রুত পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক করার কাজও চলছে।

ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। পৃথিবীর কয়েকটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।

ফ্লোরেস দ্বীপের সর্বশেষ এই ভূমিকম্পেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি সুনামির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সতর্কতা প্রত্যাহার করা হলেও দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/15272 ,   Print Date & Time: Saturday, 15 August 2026, 01:20:19 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh