• হোম > বাংলাদেশ > চিকিৎসক-রোগীর আস্থা না থাকলে বিদেশমুখিতা বন্ধ হবে না: তারেক রহমান

চিকিৎসক-রোগীর আস্থা না থাকলে বিদেশমুখিতা বন্ধ হবে না: তারেক রহমান

  • শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১৩:০৪
  • ২০

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

শুধু হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন কিংবা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন করলেই দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, চিকিৎসক, রোগী ও রোগীর স্বজন—এই তিন পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহানুভূতির সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। এই সম্পর্ক দুর্বল হলে উন্নত অবকাঠামো থাকার পরও চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা বন্ধ করা কঠিন হবে।

শনিবার রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট নতুন ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, চিকিৎসকরা যদি নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করেন অথবা রোগী ও তাদের স্বজনরা চিকিৎসকদের প্রতি বিশ্বাস ও মর্যাদার সম্পর্ক অনুভব না করেন, তাহলে স্বাস্থ্য খাতে যতই অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হোক না কেন, কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। চিকিৎসার জন্য দেশের মানুষের বিদেশমুখিতা কমাতে হলে চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে আস্থা ও সম্মানের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

প্রযুক্তির সঙ্গে মানবিকতার সমন্বয় জরুরি

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু প্রযুক্তি থাকলেই একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নত হয়ে যায় না। প্রযুক্তি রোগ শনাক্ত করতে পারে, কিন্তু একজন রোগীর ভয়, উদ্বেগ ও মানসিক কষ্ট বুঝে তাকে আশ্বস্ত করার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের মানবিক আচরণের কোনো বিকল্প নেই।

রোগীর প্রতি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সহানুভূতিশীল আচরণ, মনোযোগ দিয়ে রোগীর কথা শোনা, তার মানসিক অবস্থা বোঝা এবং সম্মানজনক আচরণ চিকিৎসাসেবার মান অনেক বাড়িয়ে দেয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে চিকিৎসাব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখা শুধু চিকিৎসকদের একক দায়িত্ব নয় বলেও সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, চিকিৎসক, রোগী ও রোগীর স্বজন—সবার পারস্পরিক সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমেই একটি নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।

আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার লক্ষ্য

তারেক রহমান বলেন, আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার লক্ষ্য কেবল হাসপাতালের অবকাঠামো ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণ নয়। উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ, সুশাসন এবং সময়োপযোগী নীতির সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

৫০০ শয্যাবিশিষ্ট ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের নতুন ভবন উদ্বোধনের মাধ্যমে সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে দেশ আরও এক ধাপ এগিয়েছে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম খালেদা জিয়া এই হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। সময়ের প্রয়োজন ও চিকিৎসাসেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংযোজনের মাধ্যমে হাসপাতালটি বর্তমানে আরও বড় পরিসর ধারণ করেছে।

বাড়বে নিউরোলজি চিকিৎসার সক্ষমতা

তারেক রহমান বলেন, স্ট্রোক, ইপিলেপসি বা খিঁচুনি, পারকিনসন্স ডিজিজ, ডিমেনশিয়া এবং মেরুদণ্ডের বিভিন্ন জটিল রোগ বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশেও এসব রোগের আধুনিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসার চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

নতুন ৫০০ শয্যার ভবন চালুর ফলে এসব রোগের চিকিৎসা সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আধুনিক আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, সর্বাধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধা এবং বিশেষায়িত ওয়ার্ডের সমন্বয়ে নির্মিত নতুন ভবনটি শুধু রোগী ভর্তির সক্ষমতাই বাড়াবে না, চিকিৎসা গবেষণা ও উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যসেবা সবার জন্য নিশ্চিত করার উদ্যোগ

স্বাস্থ্যকে শুধু মৌলিক অধিকার নয়, একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, উন্নত চিকিৎসা যদি শুধু শহরের বিত্তবান মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সেটিকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা বলা যায় না।

প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ, দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও প্রান্তিক জনগণের কাছেও সাশ্রয়ী এবং মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোনো রোগীকে যাতে সামান্য চিকিৎসার জন্যও বিপুল অর্থ ব্যয় করে রাজধানীতে ছুটে আসতে না হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার আধুনিক ও কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। এর অংশ হিসেবে ই-হেলথ কার্ড চালুর পাশাপাশি মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে পূর্ণাঙ্গ প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

তারেক রহমান বলেন, জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়ার মাধ্যমে সরকার প্রমাণ করেছে যে ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ গড়া শুধু একটি স্লোগান নয়। দেশে এমন একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য, যাতে দেশের মানুষ প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসাসেবা নিজ দেশেই পেতে পারে।

তবে সরকারের একক উদ্যোগে স্বাস্থ্য খাতের সব সমস্যা সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসক, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের সম্মিলিত ভূমিকার ওপরই চিকিৎসাসেবার সফলতা নির্ভর করবে।

তিনি বলেন, অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও নীতির পাশাপাশি মানবিকতা, পারস্পরিক সম্মান এবং আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে পারলেই দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা সত্যিকার অর্থে আধুনিক ও জনবান্ধব হয়ে উঠবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/15260 ,   Print Date & Time: Saturday, 15 August 2026, 12:56:14 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh