• হোম > বাণিজ্য > সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু, স্বস্তি ফিরতে পারে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে

সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু, স্বস্তি ফিরতে পারে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে

  • শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৪
  • ১৭

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

দেশের জাতীয় গ্যাস গ্রিডে আবারও বাড়ছে এলএনজি সরবরাহ। সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন প্রায় ১১০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ করা হলেও ধাপে ধাপে তা বাড়িয়ে টার্মিনালটির পূর্ণ সক্ষমতা অনুযায়ী দৈনিক ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সামিটের মুখপাত্র জানিয়েছেন, শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত ২টার মধ্যে গ্যাস সরবরাহ ধীরে ধীরে বাড়িয়ে পূর্ণ সক্ষমতায় নেওয়ার আশা করা হচ্ছে। অর্থাৎ কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সামিটের এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাসের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

জাতীয় গ্যাস গ্রিডে বাড়বে গ্যাসের সরবরাহ

সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ায় জাতীয় গ্যাস গ্রিডে গ্যাসের প্রাপ্যতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন খাতে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে যে চাপ রয়েছে, তা মোকাবিলায় এলএনজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সামিটের মুখপাত্র বলেন, গ্যাসের সরবরাহ বাড়লে শিল্প কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং অন্যান্য গ্যাসনির্ভর গ্রাহকের জন্য গ্যাসের প্রাপ্যতা বাড়বে। এর ফলে শিল্প উৎপাদন কার্যক্রমে গতি আসার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় গ্যাস গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ বাড়লে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে। পাশাপাশি গ্যাসনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক রাখতে এটি সহায়ক হবে।

বর্তমানে সরবরাহ ১১০ এমএমসিএফডি

সামিটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরুর পর বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হচ্ছে। তবে এটি টার্মিনালের সর্বোচ্চ সক্ষমতা নয়।

পর্যায়ক্রমে সরবরাহ বাড়িয়ে দৈনিক ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেওয়া হবে। পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছাতে পারলে সামিট এলএনজি টার্মিনাল জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়টি শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দেশের অনেক শিল্প কারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনের জন্য প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। গ্যাসের চাপ কমে গেলে এসব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

মধ্যরাতের মধ্যে পূর্ণমাত্রায় সরবরাহের আশা

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বাসসকে জানিয়েছেন, সামিটের এফএসআরইউ থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই জাতীয় গ্যাস গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, ধীরে ধীরে গ্যাসের চাপ বাড়ানো হবে। মধ্যরাতের মধ্যে পূর্ণমাত্রায় গ্যাস সরবরাহে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আরও জানান, সামিটের পাশাপাশি এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউ থেকেও গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। ফলে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে গ্যাসের সামগ্রিক সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

শিল্প খাতে বাড়তে পারে গ্যাসের প্রাপ্যতা

সামিট এলএনজি টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করলে দেশের শিল্প খাতে এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে গ্যাসনির্ভর শিল্প কারখানাগুলোতে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন কার্যক্রম আরও স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।

গ্যাস সরবরাহ বাড়লে কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগানোর সুযোগও বাড়বে। এতে শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দেশের শিল্প খাতে গ্যাসের চাপ ও সরবরাহ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের উদ্বেগ রয়েছে। পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় অনেক সময় কারখানায় উৎপাদন কমাতে বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কার্যক্রম সীমিত করতে হয়। তাই জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত গ্যাস যুক্ত হওয়া শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বিদ্যুৎ উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাবের সম্ভাবনা

গ্যাস সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থারও সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। দেশে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। ফলে গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এসব কেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে।

সামিটের এলএনজি সরবরাহ পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছালে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে জ্বালানির প্রাপ্যতা বাড়বে। এতে গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি সরবরাহের চাপ কিছুটা কমতে পারে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায়ও স্বস্তি আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউ থেকেও সরবরাহ অব্যাহত

জাতীয় গ্যাস গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে সামিটের পাশাপাশি এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউ থেকেও গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে দেশের এলএনজি আমদানি ও পুনঃগ্যাসীকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত গ্যাস যুক্ত হচ্ছে।

এলএনজি আমদানি করে তা এফএসআরইউতে পুনঃগ্যাসীকরণের পর জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

অর্থনীতিতে গতি ফেরানোর আশা

গ্যাস সরবরাহ বাড়ার ফলে শুধু শিল্প ও বিদ্যুৎ খাত নয়, সামগ্রিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। কারণ, শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিভিন্ন সেবা কার্যক্রমের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

গ্যাসের সরবরাহ পরিস্থিতি উন্নত হলে শিল্প কারখানায় উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি সংকট কমলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার ক্ষেত্রে তা সহায়ক হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়া জাতীয় জ্বালানি ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এর সঙ্গে এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউ থেকেও গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত থাকায় জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে দৈনিক ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহে পৌঁছাতে পারলে দেশের গ্যাস সরবরাহ, শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এখন মূল নজর থাকবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহে পৌঁছাতে পারে কি না, তার ওপর।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/15252 ,   Print Date & Time: Saturday, 15 August 2026, 01:08:16 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh