• হোম > রাজনীতি > বিএনপির মহাসচিব পদে আলোচনায় রিজভী-সালাহউদ্দিনসহ ৪ নেতা

বিএনপির মহাসচিব পদে আলোচনায় রিজভী-সালাহউদ্দিনসহ ৪ নেতা

  • বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২০:১৫
  • ৭৭

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পদত্যাগ করায় দলটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদটি শূন্য হয়ে পড়েছে। তার পদত্যাগের পর এখন বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন, তা নিয়ে দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।

পরবর্তী মহাসচিবের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘মহাসচিব কে হচ্ছেন, এ বিষয়ে অপেক্ষা করেন, পরে জানানো হবে।’

তবে দলটির একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মহাসচিবের পদ শূন্য হলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আপাতত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পেতে পারেন। পরে চলতি বছরের ডিসেম্বর অথবা আগামী জানুয়ারিতে দলীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হলে তাকে ভারমুক্ত করে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করা হতে পারে।

তবে রিজভীর পাশাপাশি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের নামও মহাসচিব পদে আলোচনায় রয়েছে।

রিজভী-সালাহউদ্দিনের নাম কেন এগিয়ে

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সালাহউদ্দিন আহমদ ও রুহুল কবির রিজভীর নাম তুলনামূলকভাবে বেশি আলোচিত হচ্ছে। এর পেছনে তাদের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, রাজপথের ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দলের প্রতি আনুগত্যকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা রয়েছে। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে তার ভূমিকা, দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার অভিজ্ঞতা এবং সংসদের ভেতরে-বাইরে বক্তব্য দেওয়ার দক্ষতাও তাকে সম্ভাব্য মহাসচিব হিসেবে আলোচনায় এগিয়ে রাখছে।

অন্যদিকে, রুহুল কবির রিজভী দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির দপ্তর ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং দলীয় কার্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনায় তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

বিগত দেড় দশকে মামলা, হামলা ও গ্রেপ্তারসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়াপল্টনে সক্রিয় ছিলেন। রাজপথের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তাকে নিয়মিত দেখা গেছে। এ কারণে দলের তৃণমূল পর্যায়েও তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সক্রিয়তার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করলে রিজভী প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্ব পেলেও দলীয় কার্যক্রম থেকে তার সম্পৃক্ততা কমেনি। ফলে দলের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকার কারণে মহাসচিব পদে তার নামও জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে।

আলোচনায় এ্যানি ও সোহেল

রিজভী ও সালাহউদ্দিন আহমদের বাইরে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং হাবিব উন নবী খান সোহেলের নামও সম্ভাব্য মহাসচিব হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে বিএনপিতে উঠে এসেছেন। দীর্ঘদিন রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সময়ে কারাবরণ ও রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বর্তমানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবের পাশাপাশি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

দলের নেতাদের একটি অংশ মনে করে, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কারণে এ্যানিও মহাসচিব পদের জন্য বিবেচনায় আসতে পারেন।

অন্যদিকে, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতি সামলানোর পাশাপাশি বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন তিনি।

সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় একাধিকবার গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক মামলার মুখোমুখি হলেও দলীয় রাজনীতি থেকে সরে যাননি। বিএনপির অনেক নেতা বর্তমানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেও সোহেল কোনো সরকারি পদে না থাকায় দলের ভেতরে তার ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

কাউন্সিলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু জানিয়েছেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তীতে দলীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচন করা হবে।

ফলে আপাতত বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব পদে কে আসছেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের উচ্চপর্যায় থেকেই আসবে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রুহুল কবির রিজভী, সালাহউদ্দিন আহমদ, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও হাবিব উন নবী খান সোহেলের নাম আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নির্ভর করবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত ও কাউন্সিলের ওপর।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বক্তব্যেও আপাতত সেই অপেক্ষারই ইঙ্গিত মিলেছে—মহাসচিব কে হচ্ছেন, তা সময়মতো জানানো হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/15236 ,   Print Date & Time: Thursday, 1 October 2026, 02:48:31 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh