![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশে অবৈধ অটোরিকশার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা আকস্মিকভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চলমান সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, দেশে অবৈধ অটোরিকশার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের ব্যবহারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ করে বৃদ্ধি পেয়েছে।
গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে তিন এলএনজি টার্মিনালের পরিকল্পনা
দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি উন্নত করতে আরও তিনটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন জ্বালানি মন্ত্রী।
তিনি জানান, নতুন তিনটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি টার্মিনালের জন্য ১০ থেকে ১২ দিন আগে অর্ডার দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মোংলা-হিরন পয়েন্ট এলাকায় আরও একটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে নতুন অবকাঠামো তৈরির মাধ্যমে দেশে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
তেল আমদানি নিয়ে ‘গুজব’ না ছড়ানোর আহ্বান
তেল আমদানি নিয়ে বিভিন্ন মহলে যে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে, সে বিষয়েও কথা বলেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
তেল আমদানি বসুন্ধরাকে দেওয়া হচ্ছে—এমন নানা ধরনের কথা শোনা যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো নীতিমালা তৈরি হয়নি।
তেল নিয়ে গুজব না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ মুহূর্তে তার কিছু করার নেই, দিন গোনা ছাড়া।
বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট নিরসনে সরকারের উদ্যোগ
দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, সংকট নিরসনে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের শাসনামলে জ্বালানি খাত সংকটময় অবস্থায় পৌঁছেছে। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি, গ্যাস সরবরাহের সীমাবদ্ধতা এবং জ্বালানি আমদানির ব্যয়—এই তিনটি বিষয় বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। ফলে নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানো এবং অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।