![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি ও বন্দরনগরী নভোরোসিস্কে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। হামলায় অন্তত চারটি রুশ যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে কিয়েভ। রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় শিশুসহ অন্তত তিনজন নিহত এবং ২৪ জন আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের দাবি, কিয়েভ থেকে ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত নভোরোসিস্কে এই অভিযান চালানো হয়। হামলার তীব্রতার পর বন্দরনগরীতে জরুরি অবস্থা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
আঞ্চলিক গভর্নরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলায় হতাহতের পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়।
রাশিয়ার নৌঘাঁটিতে হামলা
নভোরোসিস্ক কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোর একটি। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযানে রুশ নৌবাহিনীর কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই হামলার মধ্য দিয়ে কৃষ্ণসাগরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নতুন করে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বন্দরনগরীর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ওডেসায় পাল্টা হামলার দাবি রাশিয়ার
ইউক্রেনের হামলার জবাবে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে পাল্টা অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে রাশিয়া।
মস্কোর দাবি, ওডেসা বন্দরে সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী একটি ইউক্রেনীয় কার্গো জাহাজে সফল হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। একই সঙ্গে একটি জ্বালানি ডিপো ও কয়েকটি বন্দর অবকাঠামো ধ্বংসের দাবিও করেছে রাশিয়া।
এ ছাড়া ওডেসার একটি শপিং মলেও হামলা চালানো হয়েছে বলে রুশ পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে পূর্ণাঙ্গ যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা
এদিকে কৃষ্ণসাগরে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে ইউক্রেনকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, কৃষ্ণসাগরে বেসামরিক তেলবাহী জাহাজে কোনো ধরনের হামলা চালানো উচিত হবে না। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও দামের স্থিতিশীলতা বিবেচনায় নভোরোসিস্কের তেল রপ্তানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু না করার জন্যও কিয়েভকে সতর্ক করা হয়েছে।
নভোরোসিস্ক রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় সেখানে বড় ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
সংঘাতের নতুন উত্তেজনা
কৃষ্ণসাগরে সামরিক ও বাণিজ্যিক অবকাঠামোকে ঘিরে রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলা এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে বেসামরিক জাহাজ ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দর অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে এর প্রভাব পড়তে পারে।
এর মধ্যেই পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কও নতুন করে উত্তপ্ত হচ্ছে। পশ্চিমা দেশগুলো রুশ বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দ করলে সেটিকে ‘দস্যুতা’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং এর কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
ফলে নভোরোসিস্কে হামলার পর কৃষ্ণসাগর এখন শুধু রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ক্ষেত্রই নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার দিক থেকেও আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।