• হোম > অর্থনীতি > বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

  • বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১৪:১৬
  • ৪৮

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। এক দিনের ব্যবধানে গ্রস রিজার্ভ বেড়ে ৩৭ দশমিক ০৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) স্বীকৃত বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতিতে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভও ৩২ বিলিয়ন ডলারের সীমা ছাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১২ আগস্ট) দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ০৬৬ বিলিয়ন ডলারে। এর আগে সোমবার (১০ আগস্ট) গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার। তারও আগে রোববার (৯ আগস্ট) এ পরিমাণ ছিল ৩৬ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার।

অর্থাৎ কয়েক দিনের ব্যবধানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট মজুত ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। রিজার্ভের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বৈদেশিক খাত ও মুদ্রাবাজারের জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিপিএম-৬ হিসাবেও রিজার্ভ বেড়েছে

শুধু গ্রস রিজার্ভ নয়, আইএমএফের স্বীকৃত বিপিএম-৬ পদ্ধতিতেও বাংলাদেশের রিজার্ভে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ হিসাবে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে দেশের ব্যবহারযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ২৬০ বিলিয়ন ডলারে। গত সোমবার একই পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার।

ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপিএম-৬ হিসাবেও রিজার্ভ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে কোনো দেশের প্রকৃত ও ব্যবহারযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার মজুত পরিমাপের ক্ষেত্রে এই হিসাব পদ্ধতিকে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

কেন গুরুত্বপূর্ণ রিজার্ভের এই বৃদ্ধি?

একটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ মূলত তার আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক ঋণের দায় পরিশোধ এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার সক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে পর্যাপ্ত রিজার্ভ থাকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। রিজার্ভ বাড়লে আমদানি দায় পরিশোধে সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি বৈদেশিক লেনদেনে চাপ মোকাবিলার সুযোগও তৈরি হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, বৈদেশিক খাত এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এসব উদ্যোগের ধারাবাহিক প্রভাবের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহের কারণে রিজার্ভে ইতিবাচক প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

গ্রস রিজার্ভ ও বিপিএম-৬ হিসাবের পার্থক্য

বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের তথ্য দুটি পদ্ধতিতে প্রকাশ করে। এর একটি হলো গ্রস রিজার্ভ, যেখানে মোট বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের হিসাব তুলে ধরা হয়।

অন্যদিকে বিপিএম-৬ (Balance of Payments and International Investment Position Manual) পদ্ধতিতে এমন কিছু সম্পদ ও দায় বিবেচনায় নেওয়া হয়, যার ফলে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের একটি তুলনামূলক বাস্তব চিত্র পাওয়া যায়।

আইএমএফের নির্ধারিত এই পদ্ধতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হওয়ায় বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তুলনা ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিপিএম-৬ হিসাব গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে বাংলাদেশের গ্রস রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ওপরে এবং বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলারের বেশি হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার মজুতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে এই ইতিবাচক ধারা কতটা স্থায়ী হয়, তা নির্ভর করবে বৈদেশিক মুদ্রার আয়-ব্যয়, আমদানি পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যের ওপর


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/15214 ,   Print Date & Time: Monday, 28 September 2026, 02:51:24 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh