![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রতিবেশী কোনো দেশের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালাতে ইরাকের ভূখণ্ড কিংবা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি। একই সঙ্গে ইরাকের আকাশসীমা লঙ্ঘন কিংবা দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো ধরনের হস্তক্ষেপের চেষ্টা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
গত রাতে ইরাকের এয়ার ডিফেন্স কমান্ড অপারেশন্স সেন্টার পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী আল-জাইদি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরাকি নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
পরিদর্শনকালে ইরাকের জাতীয় নিরাপত্তা ও আকাশসীমার সুরক্ষার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় দেশের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি বলেন, ইরাকের আকাশসীমা ও সার্বভৌমত্ব অলঙ্ঘনীয়। দেশের জাতীয় নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে হামলায় ইরাকের ভূখণ্ড নয়
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, কোনো পক্ষকেই ইরাকের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করে প্রতিবেশী দেশের ওপর হামলা চালানোর অনুমতি দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর যেকোনো ধরনের আগ্রাসন চালানোর জন্য ইরাকের ভূখণ্ড কিংবা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ইরাকের আকাশসীমা লঙ্ঘন বা দেশের নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটানোর যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দেন তিনি।
আল-জাইদির এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ইরাকের অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা ইরাক দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাবের মধ্যে রয়েছে। দেশটির আকাশসীমা যাতে কোনো সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে সরকারের এই সতর্কতা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আধুনিকায়নে গুরুত্ব
এয়ার ডিফেন্স কমান্ড অপারেশন্স সেন্টার পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী দেশের বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা করেন। আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তি, কার্যকর নজরদারি এবং উন্নত প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এ কারণে ইরাকের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।
আকাশসীমা লঙ্ঘন নিয়ে কড়া সতর্কতা
ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহার করে কোনো দেশ বা পক্ষ সামরিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলে তা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী আল-জাইদি স্পষ্ট করেছেন, ইরাক কোনো পক্ষকেই নিজের ভূখণ্ড বা আকাশসীমাকে অন্য দেশের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে দেবে না।
একই সঙ্গে ইরাকের আকাশসীমায় অননুমোদিত প্রবেশ কিংবা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা হলে সরকার তা বরদাস্ত করবে না বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
তার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ইরাক একদিকে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে নিজের ভূখণ্ড ব্যবহারের বিরোধিতা করেছে, অন্যদিকে দেশের নিজস্ব আকাশসীমা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর অবস্থানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তায় ইরাকের অবস্থান
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশের সামরিক তৎপরতা ও আকাশসীমা ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় ইরাকের পক্ষ থেকে নিজেদের ভূখণ্ড ও আকাশসীমা অন্য দেশের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার না করার ঘোষণা আঞ্চলিক নিরাপত্তা আলোচনায় নতুন গুরুত্ব তৈরি করেছে।
প্রধানমন্ত্রী আল-জাইদির বক্তব্য অনুযায়ী, ইরাক কোনো পক্ষের সামরিক সংঘাতে নিজের ভূখণ্ডকে ব্যবহারের সুযোগ দিতে চায় না। একই সঙ্গে দেশের আকাশসীমা ও সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো ধরনের হস্তক্ষেপও মেনে নেবে না বাগদাদ।
এদিকে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আধুনিকায়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ইরাকের আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।