![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার পর দলের মহাসচিব ও সরকারের মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে তাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পরই তিনি এসব পদ ছাড়েন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
বিএনপির একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দলের শীর্ষ ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের প্রার্থী করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর মির্জা ফখরুল বিএনপির মহাসচিব, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রপতি পদে দলের মনোনয়ন পাওয়ার কারণেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় মহাসচিব ও মন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল
আগামী ২০ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুলের মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ায় এখন তার মনোনয়নপত্র নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ হিসেবে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করবে নির্বাচন কমিশন।
ইসি সূত্র অনুযায়ী, আগামী ১৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে নির্বাচন কমিশন ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময় থাকবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার না হলে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
একই সঙ্গে দল ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দলের মহাসচিব হিসেবে তিনি বিএনপির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি সরকারে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছিলেন।
রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর তার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে একই সঙ্গে দলীয় ও সরকারি দায়িত্বে পরিবর্তন আসছে। রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হলে সাংবিধানিক দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের নাম চূড়ান্ত করার বিষয়টি নিয়ে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত দলের পক্ষ থেকে তাকেই প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন না। জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সাংবিধানিক বিধান রয়েছে। ফলে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা দলের প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সাধারণত বেশি থাকে।
এবারও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্তের পর নির্বাচনের সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
তবে চূড়ান্তভাবে কে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন, তা নির্ধারিত হবে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ধাপ শেষ হওয়ার পরই নির্বাচনের চূড়ান্ত চিত্র পাওয়া যাবে।
২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে ভোট
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হবে। ফলে আগামী কয়েক দিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পদত্যাগের পর এখন বিএনপির মহাসচিব ও সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে কারা আসছেন, সেদিকেও রাজনৈতিক মহলের নজর থাকবে।