• হোম > ক্রিকেট | খেলা > হাসানের ৬ উইকেটে ১৯৮ রানেই অলআউট অস্ট্রেলিয়া

হাসানের ৬ উইকেটে ১৯৮ রানেই অলআউট অস্ট্রেলিয়া

  • বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১৩:৪৪
  • ৫৯

---

 

স্পোর্টস ডেস্ক

ডারউইনের বাউন্সি উইকেটে রীতিমতো পেস ঝড় তুলেছেন বাংলাদেশের বোলাররা। হাসান মাহমুদ, এবাদত হোসেন ও তাসকিন আহমেদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা। একের পর এক উইকেট হারিয়ে নিজেদের প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯৮ রানেই অলআউট হয়েছে স্বাগতিকরা।

অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ গড়েছেন স্টিভেন স্মিথ। অভিজ্ঞ এই ব্যাটার করেছেন ৭১ রান। তবে তার লড়াইও শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে পারেনি। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন হাসান মাহমুদ। ৫৫ রান খরচায় ৬ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারে দুর্দান্ত এক বোলিং পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন তিনি।

ডারউইনের উইকেটে শুরু থেকেই নতুন বলের বাড়তি বাউন্স ও সুইং কাজে লাগান বাংলাদেশের পেসাররা। তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনারকে শুরু থেকেই অস্বস্তিতে দেখা যায়।

বিশেষ করে হাসান ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে। দুই দিকেই বল সুইং করানোর পাশাপাশি উইকেট থেকে বাড়তি বাউন্স আদায় করে নেন তিনি। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই ট্রাভিস হেডকে বিভ্রান্ত করেছিলেন হাসান। তবে ক্যাচটি নিরাপদ জায়গায় পড়ায় সে যাত্রায় বেঁচে যান অজি ওপেনার।

অবশেষে ১২তম ওভারে প্রথম সাফল্য পায় বাংলাদেশ। অফ স্টাম্পের বাইরে হাসানের করা বল ড্রাইভ করতে গিয়ে এজ করেন অস্ট্রেলিয়ার আরেক ওপেনার। বল সরাসরি চলে যায় উইকেটকিপার লিটন দাসের গ্লাভসে। ২৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ভাঙে অস্ট্রেলিয়ার ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি।

পরের ওভারেই আবারও আঘাত হানেন হাসান। এবার তার শিকার ট্রাভিস হেড। গুড লেংথ থেকে ভেতরে ঢুকে আসা বল ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে স্টাম্পে আঘাত করে। ২২ রান করে ফেরেন হেড। দ্রুত দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।

এরপর বাংলাদেশের পেস আক্রমণে যোগ হয় এবাদত হোসেনের সাফল্য। ১৭তম ওভারে তার বলে স্টিভেন স্মিথের দেওয়া ক্যাচ তানজিদ তামিমের হাতে জমা হয়নি। সহজ সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়ে বাংলাদেশ দল। তবে পরের ওভারেই ক্ষতি পুষিয়ে দেন এবাদত।

মার্নাস লাবুশেনকে ফিরিয়ে নিজের প্রথম উইকেট তুলে নেন এই পেসার। অফ স্টাম্পের বাইরে গুড লেংথের বলে ব্যাট চালাতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন লাবুশেন। ২০ বল মোকাবিলা করে মাত্র ১ রান করেই ফেরেন অস্ট্রেলিয়ার এই তারকা ব্যাটার।

দ্রুত তিন উইকেট হারানোর পর পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করেন ক্যামেরন গ্রিন। তাসকিন আহমেদের করা ওভারের প্রথম বলেই ডিপ স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের মনোভাব জানান দেন তিনি। তবে অস্ট্রেলিয়ার এই ব্যাটারের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জবাবও প্রস্তুত রেখেছিল বাংলাদেশ।

ওভারের শেষ বলে গুড লেংথে বল করেন তাসকিন। অন সাইডে খেলতে গিয়ে শর্ট মিডউইকেটে মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ দেন গ্রিন। ১৩ বলে ১৩ রান করে ফেরেন তিনি। ফলে চার উইকেট হারিয়ে ৭৪ রান নিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে যায় অস্ট্রেলিয়া।

লাঞ্চের পর স্টিভেন স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি মিলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। বাংলাদেশের পেসারদের বিপক্ষে বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যাট করতে থাকেন দুজন। দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি বড় জুটি গড়ার পথেও এগিয়ে যাচ্ছিলেন তারা।

তবে বিপজ্জনক হয়ে ওঠা সেই জুটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি এবাদত। তার করা ৩৭তম ওভারের প্রথম বলটি অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ে ভেতরের দিকে ঢুকে আসে। পাঞ্চ করতে গিয়ে ব্যাটের ভেতরের কানায় বল লাগিয়ে স্টাম্প ভেঙে দেন ক্যারি। ১৯ রান করে ফেরেন এই অজি ব্যাটার। ভাঙে ৫৫ রানের পঞ্চম উইকেট জুটি।

এরপর দ্রুত পরপর উইকেট হারাতে থাকে অস্ট্রেলিয়া। উইকেটে আসা বো ওয়েবস্টারকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি তাসকিন। ৩৯তম ওভারে সরাসরি বোল্ড করে ১২ রান করা ওয়েবস্টারকে ফেরান তিনি।

এরপর প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্কও বাংলাদেশের বোলারদের সামনে সুবিধা করতে পারেননি। দুজনের কেউই দুই অঙ্কের রান করতে পারেননি। ফলে চা বিরতিতে যাওয়ার আগেই আট উইকেট হারিয়ে ফেলে অস্ট্রেলিয়া।

চা বিরতির পর আবারও আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করেন স্মিথ। ব্যক্তিগত রান বাড়ানোর পাশাপাশি দলের সংগ্রহকে দুইশর কাছাকাছি নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। কিন্তু হাসান মাহমুদের বোলিংয়ের সামনে সেই পরিকল্পনাও ব্যর্থ হয়।

হাসানের খাটো লেংথের বল এগিয়ে এসে পুল করার চেষ্টা করেন স্মিথ। কিন্তু ব্যাটের ওপরের কানায় লেগে বল উঠে যায় আকাশে। সহজ ক্যাচে পরিণত হওয়া সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৭১ রানের স্মিথকে ফেরান হাসান। এর মধ্য দিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন বাংলাদেশের এই পেসার।

এরপর নাথান লায়নকেও ফিরিয়ে নিজের ছয় উইকেট পূর্ণ করেন হাসান মাহমুদ। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস থামে ১৯৮ রানে।

অর্থাৎ ডারউইনের বাউন্সি উইকেটে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের দাপটে ২০০ রানও পার করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। হাসানের ছয় উইকেটের পাশাপাশি এবাদত ও তাসকিনের গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অজিদের ব্যাটিং লাইনআপকে পুরোপুরি চাপে ফেলে দেয়।

এই ইনিংস বাংলাদেশের পেস বোলিং ইউনিটের জন্যও বড় আত্মবিশ্বাসের বার্তা। নতুন বল থেকে শুরু করে পুরোনো বলে শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিক চাপ ধরে রেখে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংকে মাত্র ১৯৮ রানে আটকে দিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা। এখন ম্যাচে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে কতটা সুবিধা নিতে পারে বাংলাদেশ, সেটিই হয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/15204 ,   Print Date & Time: Monday, 28 September 2026, 10:26:49 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh