• হোম > বাংলাদেশ > ভারত সফরের প্রস্তুতি, ব্রিকস সম্মেলন এড়াতে পারেন তারেক রহমান

ভারত সফরের প্রস্তুতি, ব্রিকস সম্মেলন এড়াতে পারেন তারেক রহমান

  • বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২০:৫৩
  • ৬৯

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিগগিরই ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে দ্বিপক্ষীয় সফরে যেতে পারেন। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও অবনতির দিকে যাওয়া ঠেকাতে নতুন করে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগের মধ্যেই সম্ভাব্য এই সফরের খবর সামনে এসেছে। বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টাইমস নাওকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

তবে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা খুবই কম বলে জানিয়েছে ঢাকার সংশ্লিষ্ট সূত্র। সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ থাকলেও বর্তমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের সেখানে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা ‘প্রায় নিশ্চিতভাবেই নেই’।

এর পরিবর্তে ভারত সরকারের সঙ্গে সরাসরি দ্বিপক্ষীয় আলোচনার জন্য একটি পৃথক সফর আয়োজনের বিষয়ে কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, বহুপক্ষীয় সম্মেলনের রাজনৈতিক আবহ এড়িয়ে সরাসরি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের বিভিন্ন জটিলতা নিয়ে আলোচনা করা তুলনামূলকভাবে কার্যকর হতে পারে।

ভারতের নতুন হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ

সম্ভাব্য সফরের আলোচনা এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন বাংলাদেশে সদ্য দায়িত্ব নেওয়া ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। ঢাকায় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠককে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বৈঠকটি ইতিবাচক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর এই উদ্যোগকে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন কমানোর একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ইস্যুতে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ পুনরায় জোরদার হলে এসব বিষয়ে আলোচনার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না তারেক রহমান?

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় সফর এবং ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশন—দুই ক্ষেত্রেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

বিশেষ করে শেখ হাসিনা ইস্যু দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া সীমান্ত নিরাপত্তা, পানি বণ্টনসহ দীর্ঘদিনের বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয়ও রয়েছে। এসব ইস্যুতে সরাসরি আলোচনা করতেই আলাদা দ্বিপক্ষীয় সফরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কর্মকর্তাদের মতে, ব্রিকসের মতো বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণের পরিবর্তে ভারত সরকারের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করলে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বেশি সুযোগ তৈরি হতে পারে।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে কী হবে?

ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কের অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি। বাংলাদেশ এ বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা চাইলেও ভারতের নিজস্ব আইনি ও প্রক্রিয়াগত সীমাবদ্ধতার বিষয়টি সামনে রয়েছে।

সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফরে এই বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে প্রত্যর্পণ ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে কতটা সমন্বয় সম্ভব হবে, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে থাকবে।

এর পাশাপাশি সীমান্তে নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মতো দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।

সম্পর্ক স্বাভাবিক করার নতুন উদ্যোগ

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সম্ভাব্য তারেক রহমানের ভারত সফর হলে এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সফর হবে না; বরং দুই দেশের সম্পর্ককে নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়ার একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, পানি, যোগাযোগ ও নিরাপত্তাসহ নানা ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থ জড়িত। তাই সাম্প্রতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করা দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সম্ভাব্য সফরের সময়সূচি ও আলোচনার বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট হতে পারে। একই সঙ্গে ভারতের নতুন হাইকমিশনারের কূটনৈতিক তৎপরতা দুই দেশের সম্পর্কে বাস্তব কোনো পরিবর্তন আনতে পারে কি না, সেদিকেও নজর থাকবে।

সব মিলিয়ে, ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা কম থাকলেও আলাদা দ্বিপক্ষীয় সফরে তারেক রহমানের নয়াদিল্লি যাত্রার সম্ভাবনা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। তবে সফরটি শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত হয় কি না এবং হলে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে কতটা অগ্রগতি আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/15188 ,   Print Date & Time: Monday, 28 September 2026, 03:47:59 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh