• হোম > দেশজুড়ে | সিলেট > সিলেটে অসহনীয় লোডশেডিং, চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী

সিলেটে অসহনীয় লোডশেডিং, চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী

  • বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ১৭:৪৭
  • ৯৫

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

তীব্র গরমের মধ্যে সিলেটে অসহনীয় মাত্রায় বেড়েছে লোডশেডিং। নগর এলাকায় প্রায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার অভিযোগ করছেন বাসিন্দারা। গ্রামাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও খারাপ। কোথাও কোথাও দিনের অর্ধেক সময়ও বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে, একই সঙ্গে ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার নগরীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যেই দিন-রাত ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন নগরবাসী।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় সিলেটেও এর প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, তা চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় বণ্টনের চেষ্টা করা হচ্ছে। সরবরাহ বাড়লে লোডশেডিংয়ের মাত্রাও কমে আসবে।

চাহিদার তুলনায় ৫০ মেগাওয়াট ঘাটতি

সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সূত্র জানিয়েছে, বুধবার সিলেট অঞ্চলে পিডিবির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় ২৬৫ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে ২১৫ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় ঘাটতি ছিল ৫০ মেগাওয়াট।

সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন বলেন, বিদ্যুতের ঘাটতি থাকায় সিস্টেমের ফ্রিকোয়েন্সি ঠিক রাখতে হচ্ছে। তা না হলে বিদ্যুৎকেন্দ্র ট্রিপ করে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, চলমান সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে এবং বিদ্যুৎ বিভাগও পরিস্থিতি সামাল দিতে চেষ্টা করছে। এটি মূলত জ্বালানি সংকটজনিত জাতীয় সমস্যা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট

নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত কয়েক দিন ধরে প্রায় এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে আর ফিরছে না। বিশেষ করে রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তি আরও বাড়ছে।

বাগবাড়ি এলাকার বাসিন্দা জাহিদ জানান, প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তার এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। তীব্র গরমে ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শিবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা রাহেলা বেগম বলেন, দিনে-রাতে অন্তত সাত থেকে আটবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। রাত ১২টার পরও বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ঠিকমতো ঘুমানো যাচ্ছে না বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

ক্ষতির মুখে ব্যবসায়ীরা

লোডশেডিংয়ের কারণে শুধু সাধারণ মানুষ নয়, ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরাও। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে জেনারেটর চালিয়ে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। এতে ব্যবসার পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

জিন্দাবাজার এলাকার পোশাক ব্যবসায়ী জাবের আহমদ বলেন, গরমের কারণে এমনিতেই ব্যবসায় মন্দাভাব রয়েছে। এর মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। দোকানের আলো ও ফ্যান চালু রাখতে জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে, ফলে আয়-ব্যয়ের হিসাবও কঠিন হয়ে পড়েছে।

দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলা এলাকার ওষুধ ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে ফ্রিজ ও এসি ঠিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। এতে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা প্রয়োজন এমন কিছু ওষুধ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলা শাখার মহাসচিব আব্দুর রহমান রিপন বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ উভয়েই চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় জেনারেটর চালানোর ব্যয়ও বাড়ছে।

তিনি বলেন, অন্যান্য এলাকার তুলনায় সিলেটে লোডশেডিংয়ের চাপ বেশি বলে মনে হচ্ছে। অথচ মাস শেষে বিদ্যুৎ বিলের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় পাওয়া যায় না।

স্থায়ী সমাধানের দাবি

সিলেটের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকারের উচ্চপর্যায়ের তদারকি দাবি করেছেন ব্যবসায়ী নেতারা। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংকটের বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়বে। তখন সিলেটের লোডশেডিং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট অব্যাহত থাকায় দ্রুত সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছেন সিলেটের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/15176 ,   Print Date & Time: Monday, 28 September 2026, 01:40:42 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh