![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরান প্রণালিতে মাইন পেতে রেখেছে দাবি করে সেগুলো অপসারণে মার্কিন নৌবাহিনী কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
ইরান ইস্যুতে অগ্রগতির দাবি করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, হরমুজ প্রণালি এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি মার্কিন নৌবাহিনীর সক্ষমতারও প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক হবে বলে মন্তব্য করেন।
ইরানকে বিশ্বাস করেন না ট্রাম্প
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ইরানের প্রতি আস্থার সংকটের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, তিনি ইরানকে বিশ্বাস করেন না এবং দেশটি বিভিন্ন সময়ে তাকে মিথ্যা বলেছে। ট্রাম্পের দাবি, ইরান হরমুজ প্রণালিতে মাইন পেতে রেখেছে এবং সেগুলো সরানোর কাজ করছে মার্কিন নৌবাহিনী।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, শিগগিরই পুরো প্রণালি মাইনমুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বর্তমানে হরমুজে ইরানের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই; পুরো জলপথই যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যে হরমুজের গুরুত্ব
প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
প্রণালির এক পাশে রয়েছে ইরান এবং অন্য পাশে ওমান। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাসের আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের ক্ষেত্রে হরমুজের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং তেলের দামের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
কীভাবে তৈরি হলো বর্তমান সংকট
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে অভিযান শুরু করার পর হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি জাহাজ চলাচলে অবরোধ আরোপ করে তেহরান। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের সামুদ্রিক বন্দরগুলোতে অবরোধ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র।
পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠলেও পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ১৭ জুন ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এরপর হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ তুলে নেয় ইরান। একই সময়ে ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রহরাও প্রত্যাহার করা হয়।
তবে পরিস্থিতি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ১৩ জুলাই ইরান ইসলামাবাদ চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায় এবং হরমুজ প্রণালিতে আবারও অবরোধ জারি করে।
এর পর থেকেই গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে সেই উত্তেজনা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি এবং সেখানে মাইন অপসারণের মার্কিন নৌবাহিনীর তৎপরতার কথা সামনে আসায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।