![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র হেরে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি। তার দাবি, যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দুর্বল হচ্ছে। বিপরীতে ইরান আরও শক্তিশালী অবস্থানে যাচ্ছে।
রোববার (৯ আগস্ট) এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন সিনেটর ক্রিস মারফি। তিনি যুদ্ধ দ্রুত বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।
মারফি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল হচ্ছে, ইরান শক্তিশালী হচ্ছে।’ তার মতে, যুদ্ধ বন্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার স্বার্থে প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুব ভালো নয়—এমন কোনো চুক্তিও মেনে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
দীর্ঘ যুদ্ধে বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ
মার্কিন সিনেটরের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক চাপও ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রতিদিন যুদ্ধ চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্র আরও দুর্বল হবে এবং ইরান আরও শক্তিশালী অবস্থানে যাবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের ওপর।
মারফির বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি মার্কিন জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয়ও তত বাড়তে পারে। তাই দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের পথ খুঁজে বের করা প্রয়োজন।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে অচলাবস্থা
হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
দ্য ওয়াশিংটন টাইমসের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার বিনিময়ে ইরান ক্ষতিপূরণ, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দেশটির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বন্ধের মতো দাবি জানিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে দ্রুত একটি রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ক্রিস মারফি।
নতুন যুদ্ধ ব্যয়ের বিরোধিতা
যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন করে অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব এলে তিনি এর পক্ষে ভোট দেবেন না বলেও জানিয়েছেন মার্কিন এই সিনেটর।
তবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর সংঘাতে ব্যবহৃত মার্কিন অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত পুনরায় পূরণ করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের পক্ষে তিনি অবস্থান নেবেন বলে জানিয়েছেন।
মারফির বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, তিনি দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তার মতে, যুদ্ধ অব্যাহত রাখার চেয়ে একটি সমঝোতার মাধ্যমে সংঘাত বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।