![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের ধস নেমেছে। প্রায় দুই দশকের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কম পাসের হার দেখা গেছে। ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা ২০০৭ সালের পর সর্বনিম্ন। ওই বছর পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
এবারের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সামগ্রিক পাসের হার কমে যাওয়ার পেছনে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের ফলাফল বড় প্রভাব ফেলেছে। এ বিভাগে পাসের হার নেমে এসেছে ৪৮ দশমিক ৭৪ শতাংশে। অর্থাৎ মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রতি ১০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫১ জনের বেশি অকৃতকার্য হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হয়। ফল প্রকাশের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরাও এবারের ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
প্রকাশিত ফলাফলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। আর অকৃতকার্য হয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন। ফলে এবার সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ।
মানবিকে প্রতি ১০০ জনে ফেল ৫১ জনের বেশি
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে এবার সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে মানবিক বিভাগ। এ বিভাগ থেকে সবচেয়ে বেশি ৬ লাখ ১৭ হাজার ৮৮৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৩ লাখ ১ হাজার ১৭৪ জন।
ফলে মানবিক বিভাগে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। বিপরীতে ফেলের হার প্রায় ৫১ দশমিক ২৬ শতাংশ। অর্থাৎ এ বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রতি ১০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫১ জনের বেশি পাস করতে পারেনি।
শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে দুর্বলতা এবারের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে। এসব বিষয়ে তুলনামূলক বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় মানবিক বিভাগের সামগ্রিক ফলাফলও খারাপ হয়েছে।
বিজ্ঞানে তুলনামূলক ভালো ফল
মানবিকের বিপরীতে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা এবার তুলনামূলক ভালো ফল করেছে। এ বিভাগ থেকে ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪ লাখ ৫৭ হাজার ১৮৮ জন।
বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৮০ দশমিক ৬৪ শতাংশ। অর্থাৎ এ বিভাগের প্রতি ১০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৮১ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।
বোর্ড কর্মকর্তাদের মতে, বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ও গণিতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তুলনামূলক ভালো করায় তাদের সামগ্রিক পাসের হারও বেশি হয়েছে।
ব্যবসায় শিক্ষায় পাস ৬৪.২৯ শতাংশ
এবার ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগেও পাসের হার ৬৪ শতাংশের কিছু বেশি। এ বিভাগ থেকে মোট ২ লাখ ১৯ হাজার ৬৯৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ৪১ হাজার ২৪৮ জন।
ফলে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৪ দশমিক ২৯ শতাংশ।
মানবিকের ফল নিয়ে পর্যালোচনার উদ্যোগ
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, মানবিক বিভাগে এবার বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। বিশেষ করে ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে শিক্ষার্থীরা ভালো করতে না পারায় এ বিভাগে অকৃতকার্যের সংখ্যা বেড়েছে।
তিনি জানান, বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ও গণিতে তুলনামূলক ভালো করায় তাদের পাসের হার এবং জিপিএ-৫ পাওয়ার হারও ভালো হয়েছে।
মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতার কারণ খতিয়ে দেখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, কেন এমন ফল হলো এবং কীভাবে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল তাই শুধু পাসের হার কমে যাওয়ার চিত্রই সামনে আনেনি; একই সঙ্গে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত দুর্বলতা, বিশেষ করে ইংরেজি ও গণিতের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্ট করেছে।