![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার প্রসার এবং উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বাড়াতে মেটার সঙ্গে অংশীদারত্বে ‘ক্ষুদ্র ব্যবসা উন্নয়ন একাডেমি’ চালু করেছে লাইটক্যাসল পার্টনার্স। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও বিভিন্ন ডিজিটাল টুল ব্যবহারের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক সক্ষমতা বাড়ানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
রোববার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কর্মসূচিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। আয়োজকদের মতে, আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে উদ্যোক্তাদের দক্ষ করে তুলতে পারলে তাদের ব্যবসার উৎপাদনশীলতা বাড়বে। একই সঙ্গে নতুন গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো এবং স্থানীয় পণ্যের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণেও এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে।
অনলাইন প্রশিক্ষণে প্রযুক্তির ব্যবহার শেখানো হবে
‘ক্ষুদ্র ব্যবসা উন্নয়ন একাডেমি’র আওতায় উদ্যোক্তাদের অনলাইন কর্মশালার মাধ্যমে বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শেখানো হবে। বিশেষ করে ব্যবসার প্রচার, ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নতুন গ্রাহক তৈরির কৌশল নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ডিজিটাল মার্কেটিং, ক্রেতাদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ, ব্যবসায়িক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং এআইভিত্তিক বিভিন্ন টুলের ব্যবহারকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে উদ্যোক্তারা নিজেদের ব্যবসার প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তির ব্যবহার বাস্তবে প্রয়োগ করার সুযোগ পাবেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তৈরি পোশাক ও কৃষিপণ্যসহ দেশের বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তারা ইতোমধ্যে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছেন। তবে তৃণমূল পর্যায়ের আরও বেশি উদ্যোক্তাকে এই সুবিধার আওতায় আনা গেলে ব্যবসা পরিচালনার দক্ষতা এবং বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে।
এআই ব্যবহারে ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ
মেটার প্রতিনিধি তেহারা পাঞ্চিহেওয়া বলেন, ছোট ব্যবসাগুলো এআইভিত্তিক বিভিন্ন টুল ব্যবহার করে দ্রুত নতুন গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে পারছে। নতুন একাডেমির মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এসব প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ করে তোলাই মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, ডিজিটাল অর্থনীতির সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলো প্রতিযোগিতামূলক বাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের নতুন বাজারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।
মেটার এ কর্মসূচি এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ১২টি দেশে বাস্তবায়িত হবে। এতে মোট ১০ হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। প্রতিটি দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ ও বাজারের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আলাদাভাবে সাজানো হবে।
তৃণমূল উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ
লাইটক্যাসল পার্টনার্সের প্রধান নির্বাহী বিজন ইসলাম বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করা হলে তা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে আরও গতিশীল করতে পারে।
তিনি বলেন, নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টেকসই ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করবেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাগুলো দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ খাতের উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানো গেলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশীয় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন অংশীদারের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ডিজিটাল অর্থনীতিতে উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের আশা, মেটা ও লাইটক্যাসল পার্টনার্সের এই উদ্যোগ বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোকে প্রযুক্তিনির্ভর ও আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠতে সহায়তা করবে।