• হোম > রাজনীতি > রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: অলি আহমাদকে বেছে নিল ১১ দল

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: অলি আহমাদকে বেছে নিল ১১ দল

  • রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৩০
  • ৬৬

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমাদকে প্রার্থী করল ১১ দল

আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। জোটের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমাদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত ১১ দলীয় ঐক্যের সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

এর আগে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে অলি আহমাদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বৈঠক শুরু হয়।

বৈঠকে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ও বাংলাদেশ লেবার পার্টির নেতারা অংশ নেন।

কেন অলি আহমাদকে বেছে নিল ১১ দল

সংবাদ সম্মেলনে অলি আহমাদ বলেন, ১১ দলের নেতারা তাকে একজন মুক্তিযোদ্ধা, অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত রাজনীতিবিদ হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নেই এবং রাষ্ট্র পরিচালনা ও রাজনীতিতে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি ১১ দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, জনগণের স্বার্থ রক্ষায় তারা কখনো আপস করবেন না। দেশের মানুষের পাশে থেকে কাজ করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, অলি আহমাদ বাংলাদেশের একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ও রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা। তিনি বিভিন্ন সময়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং একাধিকবার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা বিবেচনা করেই ১১ দলীয় জোট তাকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান এনসিপির আহ্বায়ক।

জুলাই সনদ ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা

বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছাড়াও বিএনপি সরকারের নির্বাচন-পরবর্তী অবস্থান, গণভোটের রায়, জুলাই সনদ এবং এর বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রপতি কীভাবে নির্বাচিত হবেন, সে বিষয়ে নতুন একটি ফর্মুলার প্রস্তাবও এসেছিল। এর লক্ষ্য ছিল সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য একজন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পথ তৈরি করা।

নাহিদ ইসলামের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সংশোধন এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছিল।

তিনি বলেন, তাদের প্রত্যাশা ছিল নির্বাচনের পর জুলাই সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। গণভোটে জনগণ জুলাই সনদের পক্ষে যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, তার ভিত্তিতে সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং সংস্কারকৃত সংবিধানের অধীনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তবে তাদের অভিযোগ, সরকার গণভোটের রায়কে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

রাষ্ট্রপতির মেয়াদ নিয়ে প্রশ্ন

নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই তারা তৎকালীন রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে জুলাই সনদ অনুযায়ী দ্রুত নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগের দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাকে আরও কয়েক মাস রাষ্ট্রপতির পদে রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া রাষ্ট্রপতিকে কোনো ধরনের বিচারের আওতায় না এনে ‘ফ্রি এক্সিট’ দেওয়ার বিষয়টিও তাদের কাছে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে জানান তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ বাড়ানোর পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনা করা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রপতির ভূমিকা কী হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিএনপির ভূমিকা নিয়েও আলোচনা

১১ দলীয় জোটের বৈঠকে বিএনপির অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান নাহিদ ইসলাম।

তার দাবি, অতীতে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছে বিএনপি। এর ফলে দেশে একাধিক রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ব্যবস্থার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়েও দীর্ঘমেয়াদি বিষয়গুলো বৈঠকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

অলি আহমাদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার মধ্য দিয়ে আসন্ন নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল। এখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের অবস্থান এবং নির্বাচনের প্রক্রিয়া কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/14990 ,   Print Date & Time: Saturday, 3 October 2026, 07:28:46 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh