![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
মেসির অবসর নিয়ে সিদ্ধান্ত তারই: এএফএ সভাপতি
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) তাকে অবসরের বিষয়ে কোনো ধরনের চাপ দিতে চায় না। সংস্থাটির সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া স্পষ্ট জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন, সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ মেসির নিজের।
আর্জেন্টাইন একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাপিয়া বলেন, মেসিকে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সময় দিতে হবে। তার মতে, এই বিষয়ে বাইরের কোনো চাপ থাকা উচিত নয়।
তাপিয়া বলেন, ২০২২ সালের বিশ্বকাপের পরও মেসি ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলবেন কি না, তা নিশ্চিত ছিল না। তখন মেসি ম্যাচ ধরে ধরে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। এবারও তার ভবিষ্যৎ নিয়ে একইভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত বলে মনে করেন এএফএ সভাপতি।
মেসির এবারের বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে তাপিয়া বলেন, তিনি আর্জেন্টাইন অধিনায়কের দুর্দান্ত একটি রূপ দেখেছেন, যা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সময়গুলোর একটি হতে পারে।
বিশ্বকাপেও উজ্জ্বল ছিলেন মেসি
৩৯ বছরে পা দেওয়া মেসি এবারের বিশ্বকাপেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি ৮টি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে আরও ৪টি গোল করিয়েছেন।
গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলসহ পুরো আসরেই আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। তার নেতৃত্ব ও পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই দলটি ফাইনালে জায়গা করে নেয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করে আর্জেন্টিনা। ফলে রানার্সআপ হয় মেসির দল।
তাপিয়া মনে করেন, এত কিছুর পরও মেসিকে এখন শুধু ফুটবল উপভোগ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। এরপর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি নিজেই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
এএফএ সভাপতি বলেন, মেসির জন্য এবারের বিশ্বকাপ ছিল অসাধারণ। ম্যাচের পর ম্যাচ তিনি রেকর্ড ভেঙেছেন এবং দলের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করেছেন।
২০৩০ বিশ্বকাপে কি দেখা যাবে মেসিকে?
মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—তিনি ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলবেন কি না। ওই বিশ্বকাপের মূল আয়োজক স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। বিশ্বকাপের শতবর্ষ উপলক্ষে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়েতেও একটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে ২০৩০ সালে মেসির বয়স হবে ৪৩ বছর। ফলে এত বেশি বয়সে বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ পর্যায়ের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তিনি মাঠে নামবেন কি না, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ফিফার তথ্য অনুযায়ী, গোলকিপার ছাড়া বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সে মাঠে নামা খেলোয়াড় হলেন ক্যামেরুনের কিংবদন্তি রজার মিলা। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে তার বয়স ছিল ৪২ বছর ৩৯ দিন।
সেই হিসাবে ২০৩০ বিশ্বকাপে মেসি খেললে বয়সের দিক থেকেও নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগ থাকবে তার সামনে। তবে সেটি এখনো অনেক দূরের বিষয়।
বর্তমানে এএফএর অবস্থান একেবারেই পরিষ্কার—মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হবে না। কবে জাতীয় দলকে বিদায় জানাবেন, নাকি আরও কিছুদিন মাঠে থেকে যাবেন, সেই সিদ্ধান্তের পূর্ণ স্বাধীনতা আর্জেন্টাইন এই মহাতারকার নিজের কাছেই থাকবে।
ফুটবলপ্রেমীদের কাছে তাই মেসির পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষাটাই এখন সবচেয়ে বড় বিষয়। কারণ তার মতো একজন কিংবদন্তির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ঠিক কখন শেষ হবে, সেটি শুধু একটি অবসরের ঘোষণা নয়; বরং বিশ্ব ফুটবলের একটি যুগের সমাপ্তিও হতে পারে।