![]()
ই-বাংলাদেশ রিপোর্ট
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ডিজিটাল দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবার আওতায় এনে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্য নিয়ে ‘ডিজিটাল ইনক্লুশন ফর মার্জিনালাইজড কমিউনিটিস’ কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায় শুরু করেছে গ্রামীণফোন। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও টেলিনরের সহযোগিতায় পরিচালিত এ উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী আড়াই বছরে দেশের আরও ৪০ লাখ মানুষকে ডিজিটাল সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কর্মসূচি চালুর পর থেকে দেশের ৩২টি জেলায় ৩৩ লাখের বেশি মানুষ এর আওতায় এসেছে। উপকারভোগীদের প্রায় ৬৮ শতাংশই নারী ও কিশোরী। দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০২৮ সালের মধ্যে আরও ৪০ লাখ মানুষের কাছে এ উদ্যোগের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে শিক্ষায় ইন্টারনেটের ব্যবহার বৃদ্ধি, অনলাইন সরকারি সেবা গ্রহণ, মোবাইলভিত্তিক আর্থিক সেবা ব্যবহার, ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে বলে জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, দেশের ডিজিটাল রূপান্তরকে সফল করতে হলে তা অবশ্যই সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর মতে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল দক্ষতা গড়ে তোলার এমন উদ্যোগ সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের লক্ষ্যকে আরও শক্তিশালী করবে।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, এখনো উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগের বাইরে রয়েছে। তাঁর মতে, শুধু নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ নয়, প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা ও নিরাপদ ডিজিটাল চর্চাও অর্থবহ সংযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের অংশীদারিত্বমূলক উদ্যোগ ডিজিটাল বৈষম্য কমানোর কার্যকর উদাহরণ হতে পারে।
অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান প্রান্তিক মানুষের জীবনে এ কর্মসূচির ইতিবাচক পরিবর্তনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন মৌলভীবাজার, নারায়ণগঞ্জ, পঞ্চগড় ও ঢাকার কয়েকজন নারী উদ্যোক্তা ও তরুণ অংশগ্রহণকারী। এছাড়া কর্মসূচির অগ্রগতি তুলে ধরার পাশাপাশি প্যানেল আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তারা প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা, অংশীদারত্ব এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল উন্নয়নকে টেকসই অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন।