![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বিএনপির নেত্রী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, বর্তমান সময়ে গণমাধ্যম কেবল টেলিভিশন চ্যানেলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রযুক্তির এই যুগে প্রত্যেক মানুষের হাতেই গণমাধ্যম রয়েছে। ফলে কেউ চাইলে শেখ হাসিনার বক্তব্য শুনতে পারবেন এবং কোনো ব্যক্তির বক্তব্য পুরোপুরি বন্ধ করে রাখা সম্ভব নয়।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, অতীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যও আদালতের আদেশে প্রচারে নিষিদ্ধ ছিল। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, যদি সেই পরিস্থিতিকে গণতন্ত্রের আদর্শ হিসেবে দেখা না হয়, তাহলে বর্তমান অবস্থাকেও কীভাবে গণতান্ত্রিক বলা যায়।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের নাগরিক এবং দেশের রাজনীতিতে তাঁর ও তাঁর পরিবারের দীর্ঘদিনের ভূমিকা রয়েছে। পাশাপাশি তাঁর পরিবারের সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসেও আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় তাঁর ব্যক্তিগত ধারণা, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসতে পারেন।
এদিকে মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন রুমিন ফারহানা। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুর্বলতারই প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের ছাত্রসংগঠনের ওপর নিয়ন্ত্রণের ঘাটতিরও ইঙ্গিত দেয়।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে যে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আবারও পুরোনো ধারা ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য সুখকর নয়।
স্থানীয় বিএনপির একটি অংশ উপজেলা প্রশাসনের অনুষ্ঠান বয়কট করার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, জনগণের ভোটে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাই এই বাস্তবতা সবাইকে মেনে নিতে হবে।
সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির এনাম খাঁ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুর কাদের ভূঁইয়াসহ স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।