![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর শুধু একটি স্থাপনা নয়; এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও নতুন বাংলাদেশের চেতনার সঙ্গে পরিচিত করবে।
বুধবার সকালে রাজধানীতে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “এখান থেকেই নতুন বাংলাদেশের পথচলা শুরু হবে। যদি আমরা কখনো পথ হারিয়ে ফেলি, তবে আমরা এখান থেকেই আবার শুরু করব।”
তিনি বলেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর কেবল অতীতের স্মৃতি সংরক্ষণের স্থান নয়, বরং এটি দেশের ইতিহাস, সংগ্রাম এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার একটি জীবন্ত দলিল হিসেবে কাজ করবে। ভবিষ্যতে নতুন প্রজন্ম এখান থেকে ইতিহাস জানবে, শিক্ষা নেবে এবং দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রাণিত হবে।
অধ্যাপক ইউনূস দেশের তরুণদের উদ্দেশে বলেন, নতুন বাংলাদেশের ইতিহাস রচনায় যুবসমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি তরুণদের এই ইতিহাসের অংশীদার হওয়ার এবং একটি সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর হবে বাংলাদেশের ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দু, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করবে। কোনো সময় জাতি যদি তার লক্ষ্য বা আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়, তবে এই জাদুঘরই নতুন করে পথ দেখাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অধ্যাপক ইউনূস উপস্থিত সবার প্রতি প্রতি বছর অন্তত একবার জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনের আহ্বান জানান। তাঁর মতে, ইতিহাসের সঙ্গে নিয়মিত সংযোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দায়িত্বশীল ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণ, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধের দলিল সংরক্ষণ, শহীদ ও সংগ্রামীদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং সেই ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই গণভবনে এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।