• হোম > বাংলাদেশ > গুমের শাস্তি যাবজ্জীবন, মৃত্যুর ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান

গুমের শাস্তি যাবজ্জীবন, মৃত্যুর ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান

  • সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬, ২০:৩৮
  • ৭২

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

গুমের অপরাধকে স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য এবং আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন আইনে গুমের জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আর গুমের কারণে মৃত্যু হলে বা পাঁচ বছর পরও নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধার করা না গেলে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা, ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে গুম প্রতিরোধ, দায়ীদের বিচার, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের অধিকার, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার জন্য একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো তৈরি হবে।

আইন অনুযায়ী, গুম হওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধারের জন্য আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি করা যাবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি অনুপস্থিত থাকলেও বিচার চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্যতা, সাক্ষী, অভিযোগকারী, তথ্য প্রকাশকারী এবং ভুক্তভোগীর পরিচয় ও নিরাপত্তা রক্ষার বিধানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ আইনে ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারকে তদন্তের অগ্রগতি জানার অধিকার দেওয়া হয়েছে। তারা গুম হওয়া ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি সম্পর্কেও তথ্য জানতে পারবেন। পাশাপাশি সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

আইনে বলা হয়েছে, দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে। এছাড়া গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহারের অনুমতিও থাকবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গুমের ঘটনায় তদন্ত সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে এবং বিচারকার্যও সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার সংরক্ষণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং পাঁচ বছর পরও ব্যক্তি উদ্ধার না হলে উত্তরাধিকারীদের জন্য গুম সনদ প্রদানের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই আইন কার্যকর হলে গুমসংক্রান্ত অপরাধের বিচার দ্রুততর হবে এবং ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের জন্য আইনি সুরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/14832 ,   Print Date & Time: Sunday, 11 October 2026, 11:45:07 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh