ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি, সংগঠন বা রাজনৈতিক দলের নয়; বরং এটি ছাত্র-জনতা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত আন্দোলনের ফল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীতে নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ন্যাব), বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) শাখার আয়োজিত ‘রক্তঝরা জুলাইয়ে নার্সদের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, জুলাই আন্দোলনকে এককভাবে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের কৃতিত্ব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর ভাষায়, ছাত্রসমাজ, সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণেই আন্দোলন সফল হয়েছে।
তিনি বলেন, বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ভিত্তি এ আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁর দাবি, দলটি শুরু থেকেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়ে এসেছে।
রিজভীর ভাষায়, “৫ জুন থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতাদের প্রতিটি কর্মসূচিকে বিএনপি সমর্থন দিয়েছে। যদি শেখ হাসিনার পতন না হতো এবং আন্দোলন ব্যর্থ হতো, তাহলে আমাদের অনেকেরই ফাঁসির মুখোমুখি হতে হতো।”
তিনি আরও বলেন, কোটাবিরোধী আন্দোলন ধীরে ধীরে এক দফার আন্দোলনে রূপ নেয়। তবে এর পেছনে বিএনপির টানা ১৭ বছরের আন্দোলন, ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস রয়েছে। তাঁর মতে, জুলাইয়ের গণআন্দোলন সেই দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামেরই চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ।
অনুষ্ঠানে নার্সদের ভূমিকার প্রশংসা করে রিজভী বলেন, নার্সরা মানবতার প্রথম সারির যোদ্ধা। স্বাস্থ্যসেবায় তাঁদের অবদান অনস্বীকার্য এবং তাঁদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া ও কল্যাণে সরকার পাশে থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সে সময়ে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকার সীমিত করা হয়েছিল এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রিজভী আরও বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা দীর্ঘ সময় কারাবন্দি, নির্যাতন ও রিমান্ডের শিকার হলেও রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রেখেছেন এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অশালীন ভাষা ব্যবহার করেননি।
ন্যাবের বিএমইউ শাখার সভাপতি শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব সুজন মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) মো. রাশেদ খাঁন, বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।