• হোম > বিদেশ > ৩০ বছরের বিজেপি দুর্গ ভেঙে জয়, ইতিহাস গড়লেন প্রশান্ত কিশোর

৩০ বছরের বিজেপি দুর্গ ভেঙে জয়, ইতিহাস গড়লেন প্রশান্ত কিশোর

  • সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬, ২০:৩০
  • ৭৪

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভার উপনির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছেন জন সুরজ পার্টির প্রধান প্রশান্ত কিশোর। দীর্ঘ তিন দশক ধরে বিজেপির দখলে থাকা আসনটি ১৯ হাজার ২৪৬ ভোটের ব্যবধানে জিতে তিনি রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।

জয়ের পর প্রতিক্রিয়ায় প্রশান্ত কিশোর বলেন, “৩০ বছরের দুর্গ ভেঙে পড়েছে মাত্র ৩০ দিনে।” তাঁর ভাষায়, এটি শুধু একটি বিধানসভা আসনের জয় নয়; বরং বিহারের জনগণের পক্ষ থেকে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা।

তিনি দাবি করেন, বিহারের মানুষ এমন একজন যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব চান, যিনি রাজ্যের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেবেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, অপরাধমূলক ভাবমূর্তির কাউকে মুখ্যমন্ত্রী করলে রাজ্যের অগ্রগতি সম্ভব নয়। প্রয়োজনে কুশওয়াহা সম্প্রদায়ের মধ্য থেকেই একজন যোগ্য ব্যক্তিকে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।

প্রশান্ত কিশোর বলেন, বিহারের সবচেয়ে বড় সংকট এখন শিক্ষা, কর্মসংস্থান, দুর্নীতি এবং ব্যাপক অভিবাসন। তাঁর দাবি, রাজ্যের এক কোটিরও বেশি তরুণ-তরুণী জীবিকার সন্ধানে গুজরাট, মুম্বাই, দিল্লি, কলকাতা ও তামিলনাড়ুসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কম মজুরির কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি বদলানোই তাঁর প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য।

তবে জয় পাওয়ার পরও তিনি বাস্তবতা তুলে ধরে বলেন, একজন বিধায়ক নির্বাচিত হলেই রাতারাতি সব সমস্যার সমাধান হবে না। তাঁর ভাষায়, “আমি বিধায়ক হলেই বাঁকিপুর বেঙ্গালুরু হয়ে যাবে না। তবে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে মানুষ ইতিবাচক পরিবর্তনের কিছু বাস্তব চিত্র দেখতে পাবেন।”

বিশ্লেষকদের মতে, এই উপনির্বাচনের ফলাফল বিহারের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। কারণ, বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবিন টানা পাঁচবার এই আসনের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। এবার সেই শক্ত ঘাঁটিতেই পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছে বিজেপিকে।

নির্বাচনী প্রচারণায়ও কৌশলগতভাবে এগিয়ে ছিলেন প্রশান্ত কিশোর। বিজেপি ও আরজেডি আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করার প্রায় দুই মাস আগেই তিনি বাঁকিপুরের প্রতিটি এলাকায় ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। স্থানীয় সমস্যাগুলো সামনে এনে দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিক প্রচারণা চালানোর ফলেই এই বড় ব্যবধানে জয় এসেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এই ফলাফল শুধু একটি উপনির্বাচনের বিজয় নয়; বরং আগামী বিহার বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণেও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/14826 ,   Print Date & Time: Sunday, 11 October 2026, 08:40:41 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh