• হোম > লাইফ স্টাইল > স্মার্টওয়াচের রিডিং দেখে আতঙ্কিত হচ্ছেন? জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

স্মার্টওয়াচের রিডিং দেখে আতঙ্কিত হচ্ছেন? জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

  • রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৪১
  • ৯৩

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

স্মার্টওয়াচে অতিনির্ভরতা বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা

বর্তমান সময়ে স্মার্টওয়াচ শুধু সময় দেখার যন্ত্র নয়, বরং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের অন্যতম জনপ্রিয় ডিভাইসে পরিণত হয়েছে। হৃদস্পন্দন, ঘুমের মান, ক্যালরি খরচ, অক্সিজেনের মাত্রা এবং দৈনন্দিন শারীরিক কার্যক্রমের মতো নানা স্বাস্থ্য সূচক পর্যবেক্ষণে এসব ডিভাইস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টওয়াচের তথ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অনেক মানুষের মধ্যে অকারণ স্বাস্থ্য-উদ্বেগ বা হেলথ অ্যাংজাইটি তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যার মূল কারণ প্রযুক্তি নয়; বরং অনেক ব্যবহারকারী নিজের শরীরের স্বাভাবিক অনুভূতির চেয়ে স্মার্টওয়াচের প্রদর্শিত তথ্যকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে দৈনন্দিন স্কোর বা স্বাস্থ্য সূচকের সামান্য পরিবর্তনও অনেকের মানসিক চাপ ও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

বিশেষ করে যারা স্বভাবগতভাবে উদ্বিগ্ন, অতিরিক্ত সচেতন বা নিখুঁততা পছন্দ করেন, তারা স্মার্টওয়াচের তথ্যের প্রতি বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। ঘুমের স্কোর কিছুটা কমে যাওয়া বা রিকভারি স্কোর স্বাভাবিকের নিচে নামলেই অনেকেই মনে করেন তারা গুরুতর কোনো শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব তথ্য কেবল অ্যালগরিদমের হিসাবের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়, যা পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা মূল্যায়নের বিকল্প নয়।

চিকিৎসকদের মতে, সাময়িক ক্লান্তি, মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত পানি পান না করা, অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ কিংবা শরীরের স্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণেও স্মার্টওয়াচের রিডিং ভিন্ন হতে পারে। অনেক সময় ডিভাইস সামান্য পরিবর্তনকে ‘উচ্চ চাপ’ বা ‘কম রিকভারি’ হিসেবে দেখায়, যা ব্যবহারকারীদের অযথা উদ্বিগ্ন করে তোলে।

এ ধরনের ভুল ব্যাখ্যার কারণে অনেকেই সুস্থ থাকা সত্ত্বেও ব্যায়াম বন্ধ করে দেন, দৈনন্দিন কাজকর্মে অনীহা দেখান কিংবা অপ্রয়োজনীয়ভাবে চিকিৎসা পরীক্ষার কথা ভাবতে শুরু করেন। ফলে প্রযুক্তি স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোর পরিবর্তে কখনো কখনো মানসিক চাপও সৃষ্টি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্মার্টওয়াচ স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে কার্যকর হলেও এটি কখনোই চিকিৎসক বা পেশাদার স্বাস্থ্যসেবার বিকল্প হতে পারে না। তাই প্রতিদিনের স্কোরের সামান্য ওঠানামা নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যগত প্রবণতার দিকে নজর দেওয়া উচিত।

তারা আরও পরামর্শ দিয়েছেন, যদি স্মার্টওয়াচের রিডিং দেখে নিয়মিত উদ্বেগ, মানসিক চাপ বা মেজাজ খারাপ হতে থাকে, তাহলে ডিভাইস ব্যবহারের অভ্যাস পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শরীরের স্বাভাবিক সংকেতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায়।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/14794 ,   Print Date & Time: Monday, 5 October 2026, 04:18:04 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh