![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ ইবনে রেজা বলেছেন, দেশের বিরুদ্ধে আসা যে কোনো হুমকিকেই তেহরান বাস্তব ও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এবং সে অনুযায়ী সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণ করে। তিনি জানান, প্রতিপক্ষের বক্তব্যকে কেবল মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ হিসেবে দেখলেও ইরান কখনোই আত্মতুষ্টিতে ভোগে না।
রোববার (২ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে শত্রুপক্ষের বিভিন্ন বক্তব্য মনস্তাত্ত্বিক ও জ্ঞানগত যুদ্ধের অংশ হলেও সেগুলোকে বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য হুমকি হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ইরান কখনো অপ্রস্তুত থাকবে না এবং কোনো ধরনের হুমকির মুখে নিষ্ক্রিয় থাকবে না। বরং প্রতিটি সম্ভাব্য হুমকিকে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ ইরানের জন্য সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং কৌশলগত প্রস্তুতি জোরদারের সুযোগ তৈরি করে।
এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে সম্ভাব্য হামলার ঘোষণা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের কঠোর পাল্টা সতর্কবার্তার পর ওয়াশিংটন তাদের অবস্থানে পরিবর্তন আনে।
এদিকে শনিবার রাতে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান-এর সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। আলোচনায় তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ইরান সর্বদা প্রস্তুত।
আরাগচি আরও সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের যেকোনো ধরনের আগ্রাসন কিংবা এমন হামলায় যদি আঞ্চলিক কোনো দেশ সহযোগিতা করে, তাহলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দৃঢ়, সমানুপাতিক ও কার্যকর জবাব দেবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের এসব বক্তব্য অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ও সামরিক অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।