• হোম > বিদেশ > শান্তি চুক্তির আশায় ইরানে হামলা স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের: ট্রাম্প

শান্তি চুক্তির আশায় ইরানে হামলা স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের: ট্রাম্প

  • রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬, ১৫:৪১
  • ৫৮

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বড় ধরনের সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, তেহরানের পক্ষ থেকে শান্তি আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ এবং সম্ভাব্য একটি সমঝোতার ভিত্তি তৈরি হওয়ায় সামরিক অভিযান থেকে আপাতত সরে এসেছে ওয়াশিংটন। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো সময় সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

শনিবার (২ আগস্ট) গভীর রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে হামলা না চালানোর অনুরোধ জানিয়েছে। তাদের দাবি, একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির মূল কাঠামো নিয়ে ইতোমধ্যে নীতিগত সমঝোতা হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, সম্ভাব্য এই চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সৃষ্ট হুমকির অবসান। তিনি দাবি করেন, বিশ্বের স্থিতিশীলতা এবং ইরানের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় তিনি এই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, এই সিদ্ধান্তকে দুর্বলতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে এবং পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী সপ্তাহান্তে হামলা শুরু হওয়ার কথা ছিল এবং কয়েক দিন ধরে তা চলতে পারত। লক্ষ্য ছিল ইরানকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা।

একই সময়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। জানা যায়, টেলিফোনে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় তিনি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও না বাড়ানোর আহ্বান জানান।

এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য হামলায় ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হতে পারত। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, সেখানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত সেন্ট্রিফিউজ সংরক্ষণ করা হয়েছে।

ট্রাম্প পুনর্ব্যক্ত করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। ইরানকে অবশ্যই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।

এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন দূতাবাসগুলো নাগরিকদের জন্য নতুন নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। বাগদাদ, জেরুজালেম ও আম্মানে অবস্থিত দূতাবাস থেকে মার্কিন নাগরিকদের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সামরিক স্থাপনার আশপাশ এড়িয়ে চলারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যেও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ডের প্রধান জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ প্রতিরক্ষা দপ্তরকে জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত সামরিক সরঞ্জামের অভাবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

এদিকে কয়েক দিনের বিরতির পর আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। যদিও শুক্রবার রাতভর নতুন কোনো বড় হামলার খবর পাওয়া যায়নি, তবুও উভয় পক্ষের বক্তব্যে সংঘাতের আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি।

শনিবার ইরানের সামরিক বাহিনীও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ানোর অভিযোগ তোলে। দেশটির সামরিক কেন্দ্রীয় কমান্ডের প্রধান আলি আবদুল্লাহি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলকে আরও সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ওয়াশিংটনের সামরিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোও যুদ্ধের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা কয়েকটি সন্দেহভাজন ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার চেষ্টার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

অন্যদিকে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি ওমান উপকূলে একটি তেলবাহী জাহাজ অজ্ঞাত একটি বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা। যদিও ওই ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবুও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ইঙ্গিত সাময়িকভাবে উত্তেজনা কমালেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই পক্ষের অবস্থান এখনো কঠোর। ফলে আগামী দিনগুলোতে আলোচনার অগ্রগতি কিংবা নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ—দুই সম্ভাবনাই উন্মুক্ত রয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/14754 ,   Print Date & Time: Sunday, 4 October 2026, 10:21:13 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh