• হোম > বাংলাদেশ > পুলিশ কোনো দলের লাঠিয়াল বাহিনী নয়, জনগণের বন্ধু হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পুলিশ কোনো দলের লাঠিয়াল বাহিনী নয়, জনগণের বন্ধু হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬, ১৫:৩৬
  • ৭০

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

পুলিশ বাহিনীকে দলীয় প্রভাবমুক্ত, আধুনিক ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়; বরং জনগণের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও পেশাদার পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

রোববার (২ আগস্ট) সকালে রাজশাহীর সারদা বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী পুলিশ বাহিনীকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিবান্ধব ও মানবিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয়করণের কারণে পুলিশ বাহিনীর পেশাদারিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে বাহিনীর মনোবল পুনর্গঠনে সরকার বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে।

তিনি জানান, বর্তমানে সততা, দক্ষতা ও শৃঙ্খলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পুরস্কার ও শাস্তির নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। যারা দায়িত্ব পালনে সাহসিকতা ও কৃতিত্ব দেখাচ্ছেন, তাদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি, অনিয়ম কিংবা শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নবীন সহকারী পুলিশ সুপারদের (এএসপি) উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা এমন এক সময়ে পেশাগত জীবনে প্রবেশ করছেন, যখন দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি সবাইকে সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আইনের দৃষ্টিতে রাজপথের কর্মী, শ্রমিক, প্রান্তিক কৃষক কিংবা সাধারণ নাগরিক—সবাই সমান। সেবা নিতে এসে কোনো ব্যক্তি যেন বৈষম্যের শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রতিটি পুলিশ কর্মকর্তাকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, একটি পেশাদার বাহিনীর প্রধান শক্তি হলো চেইন অব কমান্ড, শৃঙ্খলা, আনুগত্য এবং সমন্বিত নেতৃত্ব। এসব মূল্যবোধ ধারণ করেই জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।

বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দ্রুত বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল ফরেনসিক ও আধুনিক অপরাধ তদন্তে দক্ষতা অর্জন এখন সময়ের দাবি। তাই নবীন কর্মকর্তাদের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ গ্রহণে গুরুত্ব দিতে হবে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। সততা, স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের বিশ্বাস অর্জন করাই পুলিশ সদস্যদের প্রধান দায়িত্ব।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দীর্ঘ সময় বিভিন্ন পেশায় অর্জিত অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান কাজে লাগিয়ে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের কর্মকর্তারা বাংলাদেশ পুলিশকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

অনুষ্ঠানে তিনি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং প্রশিক্ষণে বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

এবারের প্রশিক্ষণে ড. মো. নূরুল হুদা ভূঁইয়া প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বেস্ট প্রবেশনার এবং বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ—এই দুই বিভাগে সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড পান শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার আবু নুমান মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম এবং বেস্ট শ্যুটার নির্বাচিত হন এ বি এম মামুন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল জি এম আজিজুর রহমান, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদসহ সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি, প্রশিক্ষণার্থীদের অভিভাবক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আশুলিয়া ও মতিঝিলে বিস্ফোরকসদৃশ বস্তু উদ্ধারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তুগুলো নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করেছে।

তিনি বলেন, সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তুলনামূলকভাবে দেশে অপরাধ ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের হার বর্তমানে অনেক কম বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/14752 ,   Print Date & Time: Sunday, 4 October 2026, 09:28:24 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh