• হোম > অর্থনীতি > খালি কনটেইনারে চাপ বাড়ছে চট্টগ্রাম বন্দরে, নিয়ম বদলের প্রস্তাব সিপিএর

খালি কনটেইনারে চাপ বাড়ছে চট্টগ্রাম বন্দরে, নিয়ম বদলের প্রস্তাব সিপিএর

  • রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬, ১৫:০৮
  • ৮০

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

আমদানি ও রপ্তানির মধ্যে ক্রমবর্ধমান ব্যবধানের কারণে দেশে খালি কনটেইনারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ফলে ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) এবং চট্টগ্রাম বন্দরে জায়গার সংকট তৈরি হচ্ছে, যা রপ্তানি কার্যক্রমে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় খালি কনটেইনার সংরক্ষণের বর্তমান নীতিমালায় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ)।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শিপিং এজেন্ট ও মেইনলাইন অপারেটরদের (এমএলও) খালি কনটেইনার রাখার জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। তবে এই নিয়মের কারণে বন্দর ও বেসরকারি ডিপো—উভয় স্থানেই খালি কনটেইনারের জট বাড়ছে। তাই সিপিএ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে আবেদন করেছে, যাতে বন্ডেড লাইসেন্স ছাড়াই উপযুক্ত নন-বন্ডেড স্থানে খালি কনটেইনার সংরক্ষণের অনুমতি দেওয়া হয়।

আমদানি-রপ্তানির ব্যবধান বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে আমদানি ও রপ্তানি কনটেইনারের ব্যবধান প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে যেখানে এই ব্যবধান ছিল ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮৩২ টিইইউএস, সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে রেকর্ড ৩ লাখ ২৯ হাজার ৯৯৬ টিইইউএসে পৌঁছেছে।

সর্বশেষ অর্থবছরে দেশে প্রায় ১৯ লাখ ৩০ হাজার টিইইউএস কনটেইনার আমদানি হলেও রপ্তানি হয়েছে মাত্র ১৬ লাখ টিইইউএস। ফলে আমদানির তুলনায় রপ্তানি কম থাকায় বিপুল সংখ্যক খালি কনটেইনার দেশে জমে রয়েছে।

ডিপোগুলোতে বাড়ছে জায়গার সংকট

খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ২৪টি বেসরকারি আইসিডির মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার টিইইউএস। বর্তমানে এসব ডিপোতে ৫৬ হাজারের বেশি খালি কনটেইনার পড়ে আছে।

বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) মহাসচিব রুহুল আমিন শিকদার বলেন, সরকারি পরিসংখ্যানে খালি ও পণ্যবোঝাই—দুই ধরনের কনটেইনারই একসঙ্গে গণনা করা হয়। ফলে প্রকৃত বাণিজ্য ঘাটতির চিত্র আরও বড়।

তার ভাষ্য, বাস্তবে দেশের রপ্তানি কনটেইনারের পরিমাণ আমদানির তুলনায় অনেক কম। ফলে খালি কনটেইনারের স্তূপ বাড়তে থাকায় রপ্তানি পণ্য সংরক্ষণের জায়গা সংকুচিত হচ্ছে।

নীতিমালা পরিবর্তনের প্রস্তাব

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিদিন বন্দরে হাজার হাজার কনটেইনার খালি হলেও সেগুলো দ্রুত সরানো সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী বন্ডেড সুবিধার বাইরে খালি কনটেইনার রাখা যায় না। এতে বন্দর ও ডিপো—উভয় জায়গাতেই চাপ বাড়ছে।

সিপিএর মতে, বিশ্বের অনেক দেশেই শিপিং লাইনগুলো বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্স ছাড়াই নির্ধারিত স্থানে খালি কনটেইনার সংরক্ষণের সুযোগ পায়। বাংলাদেশেও একই ধরনের ব্যবস্থা চালু হলে কনটেইনার ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে, বন্দরের ওপর চাপ কমবে এবং রপ্তানি কার্যক্রমে গতি আসবে।

কেন সরানো হচ্ছে না খালি কনটেইনার?

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, খালি কনটেইনার পরিবহন শিপিং কোম্পানিগুলোর জন্য ততটা লাভজনক নয়।

তার মতে, একটি পণ্যবোঝাই কনটেইনার থেকে যেখানে কয়েক গুণ বেশি আয় হয়, সেখানে খালি কনটেইনার পরিবহনে আয় অনেক কম। ফলে অনেক শিপিং লাইন খালি কনটেইনার দ্রুত সরিয়ে নিতে আগ্রহ দেখায় না। এর প্রভাব পুরো লজিস্টিকস ব্যবস্থার ওপর পড়ে।

দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ওপর জোর

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র খালি কনটেইনার সংরক্ষণের নিয়ম পরিবর্তন করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। এর পাশাপাশি রপ্তানি বাড়ানো, কনটেইনার ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, তথ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমস, এনবিআর, শিপিং কোম্পানি ও ডিপো অপারেটরদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে হবে।

তাদের মতে, এসব পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে কনটেইনারের চাপ আরও বাড়বে এবং দেশের বন্দর ও সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/14748 ,   Print Date & Time: Sunday, 4 October 2026, 07:47:59 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh