• হোম > বাংলাদেশ > আগামী সংসদেই আসছে গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশন আইন: আইনমন্ত্রী

আগামী সংসদেই আসছে গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশন আইন: আইনমন্ত্রী

  • শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৫৮
  • ৫৬

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

আগামী জাতীয় সংসদ অধিবেশনেই গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন উত্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির লক্ষ্যে মধ্যস্থতা এবং দেওয়ানি মামলা পরিচালনা পদ্ধতির উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘আইন পেশাজীবীদের জন্য মৌলিক মধ্যস্থতা প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

সংসদে আসছে দুই গুরুত্বপূর্ণ আইন

আইনমন্ত্রী বলেন, আগামী সংসদ অধিবেশনেই গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন উত্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব আইন কার্যকর হলে মানবাধিকার সুরক্ষা এবং বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সাইবার আইন নিয়ে যা বললেন

সাইবার আইন প্রণয়নের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, নতুন আইন নিয়ে কাজ চলছে। তবে এই আইন ব্যবহার করে কোনোভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বা কারও কণ্ঠরোধ করা হবে না।

তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলার পাশাপাশি নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে মন্তব্য

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের বিষয়ে ভারতও নতুন বাস্তবতা উপলব্ধি করেছে। শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে সরকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।

মধ্যস্থতা ব্যবস্থার উন্নয়নে জাইকার সহযোগিতা

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. খাদেমউল কায়েস। এতে বক্তব্য দেন জাইকা বাংলাদেশের প্রধান প্রতিনিধি জুনকো তাকাহাশি, জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের উপমহাপরিচালক কাজুনোরি নোসে এবং জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার মহাপরিচালক মো. মনজুরুল হোসেন।

দুই দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে দেশের বিভিন্ন জেলার জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা এবং জেলা জজ আদালতে কর্মরত মোট ৪০ জন আইনজীবী অংশ নেন। প্রশিক্ষণে মধ্যস্থতার মৌলিক ধারণা, কার্যকর যোগাযোগ কৌশল, সমঝোতা পরিচালনার দক্ষতা এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) বিষয়ে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে জাপানের কেইও ইউনিভার্সিটি ল স্কুলের অধ্যাপক ও আইনজীবী মাসাকো মিয়াতাকে মধ্যস্থতা বিষয়ে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও আধুনিক কৌশল তুলে ধরেন।

আইন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জাইকার সহায়তায় বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো দেশে মধ্যস্থতা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিচারপ্রার্থীদের জন্য সহজ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/14740 ,   Print Date & Time: Sunday, 4 October 2026, 04:36:09 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh