• হোম > বাংলাদেশ > সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইন সংশোধনের উদ্যোগ

সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইন সংশোধনের উদ্যোগ

  • শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৪৫
  • ৫৯

---

বিশেষ প্রতিনিধি

ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারে মানুষের যোগাযোগ ও তথ্যপ্রাপ্তি সহজ হয়েছে অনেক। তবে সেই সুযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন ধরনের অপরাধও বেড়েছে ধারাবাহিকভাবে। গুজব, অপতথ্য, মানহানি ও সাইবার বুলিং এখন উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।ডিজিটাল চাঁদাবাজি এবং সংঘবদ্ধ অপপ্রচারের অভিযোগও বাড়ছে বিভিন্ন মহলে।

এ অবস্থায় সরকার সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে।

সংশোধিত আইনে কয়েকটি অপরাধকে আরও সুস্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।গুজব, অপতথ্য,মানহানি ও হেয়প্রতিপন্ন করার কর্মকাণ্ড নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হচ্ছে। খসড়ায় নতুন ২৬/ক ধারা সংযোজনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সাইবার মাধ্যমে গুজব ছড়ালে সর্বোচ্চ দশ বছরের কারাদণ্ডের বিধান থাকছে। এ ছাড়া সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের সুযোগ থাকবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভুয়া কনটেন্ট তৈরির বিষয়ও আইনে যুক্ত হচ্ছে। ভুয়া ভিডিও, অডিও কিংবা ছবি তৈরি ও প্রচার অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

বিভ্রান্তিকর ডিজিটাল কনটেন্ট ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করাও শাস্তিযোগ্য হবে। মানহানি কিংবা কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে প্রচারও অপরাধের আওতায় আসছে। নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে এমন অপরাধে কঠোর শাস্তির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন অনেক ক্ষেত্রে অপব্যবহারের অভিযোগে আলোচনায় রয়েছে।

সংঘবদ্ধ কয়েকটি চক্র বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করছে বলে অভিযোগ। ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, উদ্যোক্তা ও রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং সাধারণ নাগরিকও বাদ যাচ্ছেন না। মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও দিন দিন বাড়ছে। এসব ঘটনার কারণে ব্যক্তি, পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক ভুক্তভোগী কার্যকর আইনি প্রতিকার পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে মামলা গ্রহণ ও তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। এতে অপরাধীরা দায়মুক্তির সুযোগ পাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ রয়েছে। ফলে একই ধরনের অপরাধ বারবার ঘটার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।

সাইবার বুলিং এখন সামাজিক বাস্তবতায় নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। নারী, কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের ওপর এর প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য বিকৃতভাবে ছড়িয়ে মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

অপমানজনক মন্তব্য ও ধারাবাহিক অনলাইন হয়রানির ঘটনাও বাড়ছে নিয়মিত। কিছু ঘটনায় আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক পরিণতির কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও উপাসনালয় নিয়েও অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

জাতীয় ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কেও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর ঘটনা ঘটছে। এসব প্রচারণা সামাজিক বিভাজন ও উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।এ ধরনের কর্মকাণ্ড সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। আইন সংশোধনের উদ্যোগ এসব অপরাধ মোকাবিলার লক্ষ্য নিয়েই নেওয়া হয়েছে।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনার বিষয়টিও সামনে এসেছে।আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দলিলগুলো মতপ্রকাশের অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। একই সঙ্গে অন্যের সুনাম ও জননিরাপত্তা রক্ষার সুযোগও রাখা হয়েছে।

সামাজিক শৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিষয়েও আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সে কারণে স্বাধীন মতপ্রকাশের পাশাপাশি দায়িত্বশীল আচরণের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পৃথক আইন কার্যকর করেছে। ভুয়া তথ্য ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণা ঠেকাতে নেওয়া হয়েছে নানা ব্যবস্থা। বাংলাদেশেও ভারসাম্যপূর্ণ আইনি কাঠামো গড়ে তোলার আলোচনা চলছে।

তবে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ প্রয়োগের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রকৃত অপরাধ দমন এবং বৈধ মতপ্রকাশের ভারসাম্য রক্ষাই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/14732 ,   Print Date & Time: Sunday, 4 October 2026, 02:43:31 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh