• হোম > বিদেশ > পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর ইস্যুতে লন্ডনে বিশাল বিক্ষোভ, মানবাধিকার তদন্তের আহ্বান

পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর ইস্যুতে লন্ডনে বিশাল বিক্ষোভ, মানবাধিকার তদন্তের আহ্বান

  • শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬, ১৭:৫০
  • ৫৯

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে পাকিস্তান-শাসিত জম্মু ও কাশ্মীর (পিএজেকে/আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর) পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছেন পাঁচ হাজারেরও বেশি ব্রিটিশ-কাশ্মীরি। ‘আজাদি, আজাদি’ স্লোগানে মুখর এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা পাকিস্তানের সামরিক অভিযান বন্ধ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি জানান।

কাশ্মীর টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) মধ্য লন্ডনে পাকিস্তান হাইকমিশনের সামনে আয়োজিত এই বিক্ষোভে নারী, পুরুষ, শিশু ও প্রবীণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ অংশ নেন। মাত্র ৩৬ ঘণ্টার প্রস্তুতিতে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে অনেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখেন, কর্মস্থল থেকে ছুটি নেন এবং দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে লন্ডনে উপস্থিত হন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক অভিযানের কারণে তাদের স্বজনরা অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বিক্ষোভে সাম্প্রতিক সহিংসতায় নিহতদের স্মরণে একটি প্রতীকী কফিন বহন করা হয়, যা পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের পতাকায় মোড়ানো ছিল। এছাড়া বিভিন্ন ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও পোস্টারে সামরিক অভিযান বন্ধ এবং মানবাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬০০ নারী হাইড পার্কের স্পিকার্স কর্নার থেকে পাকিস্তান হাইকমিশন পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেন। তাদের অনেকের কোলে ছোট শিশু ছিল এবং হাতে ছিল মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগসংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড।

লন্ডনপ্রবাসী কাশ্মীরি লুবনা জানান, পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। শেষবার মায়ের সঙ্গে কয়েক সেকেন্ড কথা বলতে পেরেছিলেন, তখন তিনি শুধু বলেছিলেন, চারদিকে রক্ত। এরপর আর কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

আরেক বাসিন্দা জাহিদা বেগম অভিযোগ করেন, তার ছেলে ও নাতি-নাতনিরা রাওয়ালাকোটে আটকা পড়েছেন। সেখানে খাদ্য সংকট, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা এবং প্রয়োজনীয় সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা মানবিক সংকটে পড়েছেন বলে দাবি করেন।

বিক্ষোভকারীরা আরও অভিযোগ করেন, সামরিক অভিযানের সময় অনেক বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে, দোকানপাটে লুটপাট হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হয়েছেন। যদিও এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক কর্মী ও আইনজীবী এরশাদ মালিক বলেন, কাশ্মীরের জনগণের রাজনৈতিক মতামতকে সম্মান জানানো উচিত এবং সহিংসতার পরিবর্তে রাজনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।

এদিকে, মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর বলপ্রয়োগের অভিযোগের দ্রুত, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর সাম্প্রতিক সহিংসতায় প্রাণহানির প্রতিটি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

আয়োজকদের দাবি, যুক্তরাজ্যে বর্তমানে পাকিস্তান-শাসিত পশ্চিম কাশ্মীরের বংশোদ্ভূত প্রায় ১০ লাখ মানুষের বসবাস, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কাশ্মীরি প্রবাসী সম্প্রদায়। তাদের ভাষ্য, কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের আরও কার্যকর ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/14718 ,   Print Date & Time: Monday, 5 October 2026, 04:16:22 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh