• হোম > বাংলাদেশ > ১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি চোখ এখন জাতীয় সংসদের দিকে: কায়সার কামাল

১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি চোখ এখন জাতীয় সংসদের দিকে: কায়সার কামাল

  • শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬, ১৭:১৫
  • ৪৬

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, বর্তমান জাতীয় সংসদের প্রতি দেশের মানুষের প্রত্যাশা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। তার ভাষায়, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি চোখ এখন সংসদের কার্যক্রমের দিকে নিবদ্ধ। জনগণ চান, সংসদ সদস্যরা জ্ঞানভিত্তিক আলোচনা, গঠনমূলক সমালোচনা ও যুক্তিনির্ভর বিতর্কের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করবেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বর্তমান জাতীয় সংসদকে ‘মজলুমের সংসদ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই সংসদের অধিকাংশ সদস্য অতীতে ফাঁসির মঞ্চ, গুম, আয়নাঘর, নির্যাতন, নির্বাসন কিংবা কারাবন্দি হওয়ার মতো কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এসেছেন। তার দাবি, ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের প্রায় ৯৯ শতাংশই কোনো না কোনোভাবে এসব পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। ফলে বিশ্বের সংসদীয় ইতিহাসেও এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী সংসদ।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে গ্রামের কৃষক, শ্রমিক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সংসদের প্রতিটি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন। তাই জনগণের আস্থা ধরে রাখতে সংসদ সদস্যদের দায়িত্বশীল আচরণ এবং যুক্তিনির্ভর আলোচনার বিকল্প নেই।

স্পিকার হিসেবে নিজের দায়িত্ব প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, সংসদ পরিচালনায় তিনি সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন। সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষই যেন সমানভাবে নিজেদের মতামত উপস্থাপন এবং গঠনমূলক সমালোচনার সুযোগ পায়, সেটিই তার প্রধান লক্ষ্য।

তিনি বলেন, একটি কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার ও বিরোধী দলের দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন, সাম্য এবং মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা। সেই আদর্শ বাস্তবায়নে জাতীয় সংসদকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

রাষ্ট্র পরিচালনায় সংসদের গুরুত্ব তুলে ধরে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বলেন, বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও আইন বিভাগের মধ্যে আইন প্রণয়নের কেন্দ্রবিন্দু হলো জাতীয় সংসদ। এখান থেকেই রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি নির্ধারিত হয়। তাই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত জাতীয় সংসদ।

তিনি আরও বলেন, উন্নত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর সংসদীয় চর্চায় সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে যুক্তিপূর্ণ আলোচনা ও সমালোচনার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশেও সেই সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে জনগণ উপকৃত হয় এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো আরও শক্তিশালী হয়।

সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, সংসদীয় গণতন্ত্রের বিভিন্ন পর্যায়, একদলীয় শাসন, সামরিক শাসন, গণআন্দোলন, নির্বাচন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিভিন্ন বিষয় নিয়েও নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেন।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। এরপর অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সংসদ দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে আরও সুসংহত করবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় সংসদ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলেও তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/14696 ,   Print Date & Time: Saturday, 3 October 2026, 05:11:26 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh