![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যকে আরও গতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক করতে দেশের সব বন্দরে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন সেবা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শিগগিরই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে বেসরকারি খাতের উন্নয়ন ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার সর্বাত্মক নীতিগত সহায়তা দেবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরতে শুরু করেছে। গত পাঁচ মাসে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর।
মাহদী আমিন জানান, বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা মূল্যায়নের জন্য আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের ৪৫ জন ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী বাংলাদেশ সফরে আসবেন। এই সফরকে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময়ের অর্থনৈতিক সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বিভিন্ন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন হয়েছে। এ কারণে বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ, শিল্প উৎপাদন, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বৈঠক শেষে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই)-এর চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। আগের বৈঠকে উত্থাপিত ২০টি এজেন্ডার মধ্যে ইতোমধ্যে ৮ থেকে ৯টি বিষয়ে কার্যকর অগ্রগতি হয়েছে।
তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধান এবং বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য প্রতি দুই মাস অন্তর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ ধরনের ফলোআপ সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্তমান সরকারের বিনিয়োগবান্ধব উদ্যোগে ব্যবসায়ী সমাজ সন্তোষ প্রকাশ করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ব্যবসায়ীরা আশা প্রকাশ করেছেন, ২৪ ঘণ্টা বন্দর সেবা চালু হলে আমদানি-রপ্তানির সময় ও ব্যয় কমবে, পণ্য খালাসে গতি আসবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।