• হোম > বাংলাদেশ > ‘আয়নাঘর’ কোনো রূপকথা নয়, নির্মম বাস্তবতা: চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম

‘আয়নাঘর’ কোনো রূপকথা নয়, নির্মম বাস্তবতা: চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম

  • শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬, ১৭:০৯
  • ৭০

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব-১ কার্যালয়ে অবস্থিত কথিত ‘আয়নাঘর’ বা গোপন নির্যাতনকেন্দ্র (টর্চার সেল) পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি, প্রসিকিউটর, তদন্ত সংস্থার সদস্য, ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতিনিধি এবং মানবাধিকার কর্মীরা। পরিদর্শন শেষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম দাবি করেন, ‘আয়নাঘর’ কোনো রূপকথা নয়; এটি বিগত সরকারের শাসনামলের নির্মম বাস্তবতার সাক্ষ্য বহন করে।

শনিবার (১ আগস্ট) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই পরিদর্শন পরিচালিত হয়। এতে ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারপতি, প্রসিকিউশন টিম, আসামিপক্ষের আইনজীবী এবং গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিধিমালা এবং রোম স্ট্যাটিউট-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসরণ করেই বিচারিক পরিদর্শন সম্পন্ন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ‘আয়নাঘর’ বাস্তবে কেমন ছিল এবং সেখানে কী ধরনের পরিবেশে মানুষকে আটকে রাখা হতো, তা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণই ছিল এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, পরিদর্শনে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ২৯টি কক্ষ শনাক্ত করা হয়েছে। এসব কক্ষে ব্যক্তিদের দিনের পর দিন, এমনকি মাস বা বছরের পর বছর আটক রাখার অভিযোগ রয়েছে। অনেক কক্ষ এতটাই ছোট ছিল যে একজন মানুষ স্বাভাবিকভাবে সোজা হয়ে শুয়ে থাকতে পারতেন না।

আমিনুল ইসলাম জানান, তদন্তের শুরুতে র‍্যাব-১ কার্যালয়ের টাস্ক ফোর্সেস ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলের প্রকৃত অবকাঠামো খুঁজে পেতে তদন্তকারীরা জটিলতার মুখে পড়েন। কারণ, কয়েকটি কক্ষ নতুন দেয়াল নির্মাণ করে আড়াল করা হয়েছিল। পরে ভুক্তভোগীদের বর্ণনার সঙ্গে বাস্তব স্থাপনার অমিল দেখে সন্দেহের ভিত্তিতে দেয়াল অপসারণ করা হলে একে একে গোপন কক্ষগুলোর অস্তিত্ব সামনে আসে।

তিনি আরও দাবি করেন, প্রাথমিক তদন্তে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং ব্যারিস্টার আরমানকে এই গোপন আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি এখন পর্যন্ত গুম হওয়া প্রায় ২৫০ জনের বেশি ব্যক্তির কোনো সন্ধান মেলেনি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, কাউকে গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা এবং ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান এসব গোপন আটককেন্দ্রের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অভিযোগ আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তিনি জানান, শুধু মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা নয়, ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’ নীতির আওতায় দায়িত্বশীল ঊর্ধ্বতন ব্যক্তি এবং এই ব্যবস্থাকে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।

এছাড়া আগামী শনিবার সেনানিবাসের ভেতরে ডিজিএফআইয়ের ইন্টারোগেশন সেল (জিআইসি) পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, প্রসিকিউশন টিম সার্বক্ষণিক তদন্ত তদারকি করছে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই পরিদর্শনের ভিত্তিতে একটি বিচারিক স্মারক (মেমোরেন্ডাম) প্রস্তুত করা হবে, যা ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/14692 ,   Print Date & Time: Saturday, 3 October 2026, 03:24:55 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh