![]()
ই-বাংলাদেশ প্রতিবেদক
দেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য শিল্পের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে এবং উৎপাদনকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রি-ফাইন্যান্স স্কিম চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এই তহবিলের আওতায় উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলাকেও এ কর্মসূচির অন্যতম শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলার অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী তফসিলি ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদে অর্থ পাবে। পরে তারা সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে উদ্যোক্তাদের ঋণ বিতরণ করবে। এতে ব্যাংকগুলো ৩ শতাংশ মার্জিন রাখার সুযোগ পাবে। তবে এ সুবিধা পেতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে।
এই স্কিমের আওতায় চামড়া শিল্পের পুরো মূল্যশৃঙ্খলে অর্থায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। নতুন ট্যানারি ও চামড়াজাত পণ্য কারখানা স্থাপন, অবকাঠামো নির্মাণ, যন্ত্রপাতি ক্রয়, কাঁচা ও প্রক্রিয়াজাত চামড়া সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ এবং পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তিনির্ভর ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি), ডাম্পিং ইয়ার্ড ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অবকাঠামো গড়ে তুলতে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি কার্যকরী মূলধনের জন্যও অর্থায়নের সুযোগ থাকবে।
ঋণের সীমা ও শর্ত
স্কিমে ঋণ ও উদ্যোক্তার নিজস্ব বিনিয়োগের অনুপাত সর্বোচ্চ ৭০:৩০ নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন ট্যানারি বা বর্জ্য শোধন অবকাঠামোর জন্য সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা, নতুন উৎপাদন ইউনিটের জন্য ২০ কোটি টাকা, বিদ্যমান স্থাপনা উন্নয়নে ১০ কোটি টাকা এবং কার্যকরী মূলধনের জন্য সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া যাবে। মেয়াদি ঋণের পরিশোধকাল হবে সর্বোচ্চ সাত বছর। এর মধ্যে দুই বছর থাকবে গ্রেস পিরিয়ড। কার্যকরী মূলধনের ঋণ এক বছরের জন্য দেওয়া হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী তা সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত নবায়ন করা যাবে।
পরিবেশ ও মানদণ্ডে কড়াকড়ি
এই সুবিধা নিতে কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানকে ঋণ পাওয়ার দুই বছরের মধ্যে লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের সনদ অর্জনের প্রমাণ দিতে হবে। পাশাপাশি ব্যবহৃত বিদ্যুতের অন্তত ১০ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে সংগ্রহ এবং শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তবে খেলাপি ঋণগ্রহীতা এবং সরকারের বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্য বিশেষায়িত অর্থায়ন কর্মসূচির সুবিধাভোগীরা এই স্কিমের আওতায় ঋণ পাবেন না। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশসম্মত উৎপাদন, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং বৈশ্বিক বাজারে দেশের চামড়া শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।