![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
সিলেটের গোলাপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে হামলার অভিযোগের পর বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে একই ধারার রাজনীতি হিসেবে ইঙ্গিত করে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের একটি সংক্ষিপ্ত ফেসবুক পোস্ট রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ও রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ড. আতিক মুজাহিদ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দাবি করেন, ফুলবাড়ি উপজেলা এনসিপির শান্তিপূর্ণ মিছিলে বিএনপির নেতাকর্মীরা সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালিয়েছে এবং এতে দলের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।
ড. আতিকের ওই পোস্টটি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেয়ার করে মাত্র দুই শব্দের একটি ক্যাপশন দেন সারজিস আলম। তিনি লেখেন, ‘মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ!’
সংক্ষিপ্ত হলেও এই মন্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। রাজনৈতিক মহলেও এটি নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ। অনেকেই পোস্টটিকে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আচরণের মধ্যে তুলনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
গোলাপগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ
একই দিন দুপুরে সিলেটের গোলাপগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের বহনকারী গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙে যায় বলে অভিযোগ করেছে দলটি।
এনসিপির দাবি, হামলায় বিএনপি এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়িত ছিলেন। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হামলার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সারজিস আলম অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের বহনকারী গাড়িতে হামলা চালিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগ যেভাবে বেপরোয়া ছিল, ছাত্রদলও এখন সেই পথেই হাঁটছে।’
বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির পরিণতি শেখ হাসিনার চেয়েও ভয়াবহ হবে।’ একই সঙ্গে তার অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বা স্থানীয় নেতৃত্বের নির্দেশনা ছাড়া ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এমন হামলা চালাতে পারে না। তার দাবি, হামলাকারীরা ‘জিয়ার সৈনিক’ স্লোগান দিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে।
কী ঘটেছিল গোলাপগঞ্জে?
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা এর আগে গোলাপগঞ্জ পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে জুলাই আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে বেলা পৌনে ৩টার দিকে পদযাত্রার গাড়িবহর সিলেট-জকিগঞ্জ সড়ক দিয়ে গোলাপগঞ্জ শহরের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সামনে পৌঁছালে একদল ব্যক্তি ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়।
দলটির দাবি, হামলাকারীরা পেপসির বোতল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে কেন্দ্রীয় নেতাদের বহনকারী গাড়িবহর দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
হবিগঞ্জের ঘটনারও অভিযোগ
এর আগে গত ২৮ জুলাই হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত হন আলিফ চৌধুরী। বর্তমানে তিনি রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সেদিন সমাবেশ শেষে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের বহনকারী গাড়িবহর সার্কিট হাউসের উদ্দেশ্যে রওনা হলে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়। এনসিপির দাবি, প্রথমে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হয়, পরে সারজিস আলমের গাড়িকেও ধাওয়া করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সারজিস আলম একটি ব্যাংক ভবনে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ তাকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়।
দলটির আরও অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই তাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় মিডিয়া টিমের একটি মাইক্রোবাস ভাঙচুর, সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করেছে এনসিপি।
হামলার পর এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের একদল নেতা-কর্মী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেননি এবং হামলায় তাদের মিডিয়া টিম, চালক ও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন।