• হোম > Following > ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ রিভিউ: নিঃসঙ্গ পিটারের নতুন লড়াই কেমন?

‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ রিভিউ: নিঃসঙ্গ পিটারের নতুন লড়াই কেমন?

  • বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪:৫৬
  • ৯০

---

 

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের নতুন সিনেমা ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ (Spider-Man: Brand New Day) দর্শকদের সামনে হাজির করেছে এক ভিন্ন পিটার পার্কারকে। এবার তিনি শুধু অপরাধের বিরুদ্ধে লড়ছেন না, লড়ছেন নিজের নিঃসঙ্গতা, স্মৃতির যন্ত্রণা এবং হারিয়ে যাওয়া সম্পর্কের সঙ্গেও। অ্যাকশন, আবেগ এবং মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের সমন্বয়ে তৈরি এই চলচ্চিত্রটি নতুন কিছু করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সব দর্শকের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’-এর শেষ দৃশ্যের পর থেকেই শুরু হয়েছে নতুন গল্প। ডক্টর স্ট্রেঞ্জের জাদুর ফলে এমজে, নেডসহ পৃথিবীর সবাই পিটার পার্কারকে ভুলে গেছে। অন্যদিকে, আন্ট মে-ও আর বেঁচে নেই। ফলে পরিচিত সব সম্পর্ক হারিয়ে পিটার এখন একেবারেই একা। নিউইয়র্কের একটি ছোট বাসায় বসবাস করে সে সারাক্ষণ অপরাধ দমনে ব্যস্ত থাকে এবং নিজের সুপারহিরো ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য নতুন প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায়।

এবারের ছবিতে টম হল্যান্ডের অভিনয়ে স্পষ্ট পরিণত ভাব লক্ষ্য করা যায়। আগের কিশোরসুলভ পিটারের পরিবর্তে তিনি তুলে ধরেছেন মানসিকভাবে বিধ্বস্ত, কিন্তু দায়িত্বশীল এক সুপারহিরোকে। এমজে (জেনডায়া) এবং নেড (জ্যাকব ব্যাটালন)-এর সঙ্গে তার সম্পর্কের দূরত্ব ছবির আবেগঘন দিকটিকে আরও গভীর করেছে।

পরিচালক ডেস্টিন ড্যানিয়েল ক্রেটন, যিনি এর আগে ‘শাং-চি অ্যান্ড দ্য লেজেন্ড অব দ্য টেন রিংস’ নির্মাণ করেছিলেন, এবার স্পাইডার-ম্যানকে আরও মানবিক ও বাস্তবধর্মীভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন। ছবির শুরুতে পিটারের নিঃসঙ্গ জীবন এবং অপরাধ দমনের দৃশ্যগুলো দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও পরবর্তীতে গল্পের গতি কিছুটা খাপছাড়া মনে হতে পারে।

অ্যাকশনপ্রেমীদের জন্য অবশ্য ছবিটি হতাশার নয়। আকাশচুম্বী ভবনের ভেতর ও বাইরে স্পাইডার-ম্যান এবং হাল্কের লড়াই, দ্রুতগতির ভিজ্যুয়াল এবং চমৎকার সিনেমাটোগ্রাফি ছবিটিকে দারুণ বিনোদনমূলক করে তুলেছে। তবে এসব অ্যাকশন দৃশ্যের মাঝেও গল্পের ধারাবাহিকতা অনেক সময় দুর্বল হয়ে পড়েছে।

চলচ্চিত্রের অন্যতম দুর্বল দিক হলো স্মৃতিভ্রংশের গল্পকে দীর্ঘ সময় ধরে টেনে নেওয়া। এমজে ও পিটারের পুনর্মিলনের দৃশ্যগুলো শুরুতে আবেগ তৈরি করলেও পরবর্তীতে সম্পর্কটি একই জায়গায় আটকে থাকায় দর্শকদের মধ্যে এক ধরনের অপূর্ণতার অনুভূতি তৈরি হয়।

চিত্রনাট্যে আরও কিছু নতুন ধারণা থাকলেও সেগুলোর অনেকগুলোই শেষ পর্যন্ত পূর্ণতা পায়নি। পিটারের সুপারপাওয়ার দুর্বল হয়ে যাওয়ার বিষয়টি শুরুতে গুরুত্বপূর্ণ মনে হলেও খুব দ্রুত সমাধান হয়ে যায়। একইভাবে রহস্যময় খলনায়কের চরিত্রও শুরুতে আকর্ষণীয় হলেও শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশার তুলনায় কম প্রভাব ফেলেছে।

ছবিতে জন বার্নথালের পানিশার চরিত্রের উপস্থিতি দর্শকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে। এছাড়া নতুন খলনায়ক চরিত্রে স্যাডি সিঙ্ক আন্তরিক অভিনয় করলেও তার চরিত্রের উদ্দেশ্য এবং সমাপ্তি আরও শক্তিশালী হতে পারত।

সব মিলিয়ে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ মার্ভেলের একটি উচ্চাভিলাষী প্রচেষ্টা। এটি আগের মাল্টিভার্স নির্ভর গল্প থেকে বেরিয়ে এসে নতুন দিক খুঁজতে চেয়েছে। তবে শক্তিশালী অ্যাকশন, উন্নত ভিজ্যুয়াল এবং টম হল্যান্ডের পরিণত অভিনয় থাকা সত্ত্বেও গল্পের দুর্বলতা এবং আবেগের অসম্পূর্ণ উপস্থাপনার কারণে ছবিটি দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলতে কিছুটা ব্যর্থ হয়েছে।

তবুও স্পাইডার-ম্যানের জনপ্রিয়তা, নতুন গল্পের আঙ্গিক এবং চমৎকার অ্যাকশন সিকোয়েন্সের কারণে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে বড় সাফল্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মার্ভেল ভক্তদের জন্য ছবিটি অবশ্যই দেখার মতো, যদিও এটি সিরিজের সেরা স্পাইডার-ম্যান সিনেমার তালিকায় স্থান করে নিতে পারবে কি না, সে প্রশ্নের উত্তর দর্শকরাই দেবেন।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/14632 ,   Print Date & Time: Monday, 14 September 2026, 03:26:33 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh