• হোম > বিদেশ > টেলিগ্রাম প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরোভের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ, ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় নেওয়ার ঘোষণা

টেলিগ্রাম প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরোভের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ, ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় নেওয়ার ঘোষণা

  • বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৩:২০
  • ৪১

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা পাভেল দুরোভের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে সহায়তার অভিযোগ এনেছে রাশিয়া। একই সঙ্গে তাকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘ওয়ান্টেড’ তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থা।

রাশিয়ার অভিযোগ, টেলিগ্রাম প্ল্যাটফর্মে থাকা কিছু চ্যাট, চ্যানেল ও বট অপসারণে ব্যর্থ হয়েছেন দুরোভ। মস্কোর দাবি, এসব যোগাযোগমাধ্যম ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে নাশকতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যক্রমে ব্যবহার করছিল। এ কারণে দুরোভের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে সহায়তা’ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

তবে সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা। তার দাবি, কনটেন্ট মডারেশন এবং অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রে টেলিগ্রাম বরাবরই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার বাইরে গিয়েও কাজ করেছে।

অভিযোগের জবাবে টেলিগ্রামের অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে দুরোভের একটি ছবি প্রকাশ করা হয়, যেখানে তাকে ক্যামেরার দিকে মধ্যমা প্রদর্শন করতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।

রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি) দাবি করেছে, ইউক্রেনীয় গোয়েন্দারা টেলিগ্রামের মাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে রুশ নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। পরে বিভিন্ন কৌশলে তাদের নাশকতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার পরিকল্পনায় যুক্ত করা হতো।

এফএসবির তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে টেলিগ্রামের মাধ্যমে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১২ থেকে ২২ বছর বয়সী ৪৬ জন রুশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পরিবহন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আর্থিক অবকাঠামোতে হামলার পরিকল্পনায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

চলতি বছরের এপ্রিল থেকে রাশিয়ায় টেলিগ্রাম নিষিদ্ধ থাকলেও দেশটির সরকারি বিভিন্ন সংস্থা, এমনকি ক্রেমলিন ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও এখনো নিয়মিত তথ্য প্রকাশে এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে। ফলে একদিকে নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে সরকারি ব্যবহার—এই দ্বৈত অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধে টেলিগ্রাম একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। উভয় দেশের সরকারি কর্মকর্তা, সামরিক বাহিনী, যুদ্ধ বিশ্লেষক এবং জনপ্রিয় ব্লগাররা নিয়মিত এই অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য ও বার্তা আদান-প্রদান করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এ কারণেই টেলিগ্রাম এখন কার্যত একটি ‘ভার্চুয়াল যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এফএসবি জানিয়েছে, দুরোভকে আন্তর্জাতিক ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও কী প্রক্রিয়ায় তা বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া যদি ইন্টারপোলের কাছে ‘রেড নোটিশ’ জারির আবেদনও করে, তবুও সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগতে পারে।

বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বসবাস করছেন পাভেল দুরোভ। এর আগে ২০২৪ সালে ফ্রান্সেও তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। সে সময় অভিযোগ ছিল, টেলিগ্রামে অপরাধমূলক কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং তদন্ত সংস্থার অনুরোধে যথাযথ সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। পরে তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় তাকে ফ্রান্স ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও টেলিগ্রামের এই বিরোধ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম, তথ্য নিরাপত্তা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বৈশ্বিক বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/14619 ,   Print Date & Time: Monday, 14 September 2026, 06:32:51 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh