ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার (২৯ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে দেশে একটি নতুন গণতান্ত্রিক ও সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে উঠেছে। সেই পরিবেশে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করার সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। কিন্তু হবিগঞ্জে এনসিপির শান্তিপূর্ণ ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
ছাত্রশিবিরের দাবি, হামলার সময় এনসিপির মিডিয়া টিমের ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস, সাংবাদিকদের কয়েকটি গাড়ি এবং জেলা সার্কিট হাউসের ভেতরে রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় ভাঙচুর করা হয়েছে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়া এবং তাদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। সংগঠনটি এসব ঘটনাকে গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য হুমকি এবং ‘ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের অপচেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের সহিংস ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে ঝিনাইদহে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা এবং সাভারে এনসিপির পদযাত্রা-পরবর্তী সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রশিবির।
সংগঠনটির দুই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের পতনের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি, হামলা, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে, যা জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ও জাতীয় ঐক্যের পরিপন্থি।
বিবৃতিতে ছাত্রশিবির বিএনপি ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি হামলায় জড়িত নেতাকর্মীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে প্রচলিত আইনের আওতায় দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।